ঢাকা স্ট্রোক করে মারা যাওয়া ব্যাক্তির লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর করোনা আতংকে গ্রামের লোকজন লাশ নিয়ে গ্রামেই প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে পরিবারের লোকজন সরাসরি লাশ নিয়ে করস্থানে গিয়ে কয়েকজন মিলে দপ্যা-মোনাজাত করেই দাফন করে দেন মৃত ব্যাক্তিকে।
হতভাগা এই ব্যাক্তির নাম মোক্তার শেখ। ঢাকার মুগদা এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ট্রোক করে মারা যাওয়া মুক্তার শেখ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের আহম্মদ শেখের ছেলে।
এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে মোক্তারের স্ত্রী শিল্পী আক্তার একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বামীর লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসে। স্ত্রানীয় লোকজন করোনাইয় মোক্তারের মৃত্যু হয়েছে এমন সন্দেহে বাঁধা দিয়ে লাশকে সরসারি পাঠিয়ে দেয় বিনোদপুর কবরস্থানে। সেখানেই তরিঘরি করে তার দাফন হয়।
কবরস্থানের কাছেই স্যাভলন মিশ্রিত পানিতে গোসল করানো হয় শিল্পী আক্তারকেও। তারপর মোক্তারের বাবার বাড়িতে একটি বদ্ধঘরে তাকে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন মোক্তারের ভাই আব্দুস শুক্কুর।
এদিকে শিল্পী আকতার জানান, স্বামী-সন্তানের সাথে তিনি ঢাকার মুগদায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। সেখানে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন স্বামী। মঙ্গলবার থেকে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুধবার রাতে সেই অসুস্থতা আরও বেড়ে যায়। দ্রুত তাকে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান। তার কাছে এই মৃত্যুর সনদও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শিকদার মিজানুর রহমান জানান, মোক্তার শেখের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে সেটি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। একাকী এক নারী তার স্বামীর লাশ নিয়ে চলে এসেছেন। এটি অস্বাভাবিক। তাই এলাকাবাসী অ্যাম্বুলেন্সসহ লাশ কবরস্থানে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
মোক্তার শেখের মৃত্যুর সনদের বিষয়ে জানতে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়েছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগেই তারা লাশটি গ্রামে ঢুকতে না দিয়ে দাফন করেছে।
বার্তাবাজার/এসজে