সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের লক্ষীনাথপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে এনজিও কর্মী আমিরুল ইসলাম বুধবার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফ্লু ওয়ার্ড চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার তাকে ছয় তলার কেবিনে রাখার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
এদিকে মঙ্গলবার বিকালে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ লক্ষীনাথপুর গ্রামে যেয়ে আমিরুলের পরিবার পরিজনদের তিন দিন বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য বলে আসলেও বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত অসহায় ওই পরিবারের কাছে কোন সরকারি সহায়তা পোঁছে দেওয়া হয়নি।
বেসরকারি সংস্থা সুশীলনের আশাশুনি শাখা ব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দোতলার ফ্লু ওয়ার্ড চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ আরিফ আহমেদ ও ডাঃ মানস মন্ডল স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাকে ছয়তলার একটি কেবিনে আইসোলেশনে রাখার কথা বলেন। তবে কোন সমস্যা নেই বলে তাকে আর স্থানন্তার ও করা হয়নি। তবে সোমবার বিকালে তার শরীর থেকে নমুনা নিয়ে করোনা ভাইরাস আছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও তা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার বিকালে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ তার বাড়িতে যেয়ে কোন সদস্যকে তিন দিন না যাওয়া পর্যন্ত বাড়ির বাইরে না যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তাদের ঘরে কোন খাদ্য নেই বলা হলেও বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত কোন খাদ্য তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। তার চিকিৎসা খরচ বহন ও অ্যাম্বুলেন্স খরচ গুনতে ১০ হাজারের বেশি টাকা খরচ হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ যাবৎ গৃহবন্দি থাকা তার পরিবারের সদস্যরা খাবে কি তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
তবে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আরিফ আহম্মেদ বলেন, যে কোন সময় আমিরুলের শরীর থেকে নেওয়া নমুনার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপরপরই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। তবে সে আপাতত বিপদমুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত হুসেন বলেন, আমিরুলের পরিবারের সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে সংশিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
বার্তা বাজার/এম.সি