প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে এমপি শাহীন বদি অনুপস্থিত, উখিয়া-টেকনাফে ক্ষোভ!
চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের ৬৪জেলার ডিসি ও জেলার দলীয় শীর্ষ নেতা ও সাংসদদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে জেলার শীর্ষ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও উখিয়া টেকনাফের সাংসদ শাহীন বদী এমপি উপস্থিত ছিলেন না। এই নিয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্টিত কনফারেন্সে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে সরাসরি যুক্ত হয়েছিলেন কক্সবাজার জেলার করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, সাইমুম সরোয়ার কমল এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ মাহবুবুর রহমানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন ও সিভিল সার্জন ডাঃ মাহমুবুর রহমান কক্সবাজার জেলায় করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেছেন। তাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যখন যা প্রয়োজন জেলা প্রশাসনকে তা সর্বরাহের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে কক্সবাজার পৌসভার মেয়র মুজিবুর রহমান রাস্তায় জীবানু নাশক পানি ছিটানোর জন্য আরো একটি গাড়ী চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তা সর্বরাহের আশ্বাস দিয়েছেন।
কক্সবাজার সদর আসনের সাইমুম সরওয়ার কমল- এমপি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বরাদ্ধকৃত ১০টাকা মূল্যের চাল শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে জনসাধারণের দুঃখ লাগবে আগামী মাসের নির্ধারীত সময়ের আগে চাল সর্বরাহের অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী পূর্বেরকার তালিকার সাথে মানুষের দুঃখ দুর্দশা বিবেচনা করে আরো কিছু নতুন তালিকা যুক্ত করার নির্দেশ দেন এবং বিগত সময়ের ছেয়ে বেশী চাল বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে- প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কাছে আমাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, তারা যেন অভুক্ত থেকে না যায় এসব বিষয়ে জোর দিলেও চলমান করোনা সংকটে উখিয়া টেকনাফের সাংসদ শাহীন বদী জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন অভিযোগ স্থানীয় জনসাধারণের।
এমনকি গত এক সপ্তাহর বেশী সময় ধরে স্যোশাল মিডিয়াতে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যাচ্ছে। যেখানে জেলার শীর্ষ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে নিজেদের নির্বাচনী এলাকার দুর্যোগ মোকাবিলার কথা উপস্থাপনে হাজির হয়েছেন। সেখানে তার বিপরিতে এমপি শাহীন বদির অনুপস্থিতি টেকনাফ বাসীর মনে নতুন করে দাগ কেটেছে বলে মন্তব্য উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এমপি শাহীন বদির কাছে জানতে চাওয়া হলে, প্রশাসনকে সহযোগীতা করা হচ্ছে বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তিতে সংযোগ স্থাপনে চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি- অধ্যাপক মুহাম্মদ আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই দূর্যোগে যারা মানুষের অধিকার নিয়ে মানুষের কিনারায় দাঁড়াতে পারেনা, তারাতো নিজেকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দাবী করতে পারেন না। সুতরাং উখিয়া-টেকনাফে এমপি থাকার পরেও নাই অবস্থা।
টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর নূরুল বশর জানান, করোনা সংকট শুরু থেকেই এমপি শাহীন বদিকে উখিয়া টেকনাফের কোন জনগনের পাশে দেখা যায়নি। হাজার হাজার পরিবার না খেয়ে আছে। আজকে ভিডিও কনফারেন্সে উপিস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে এলাকার দুঃখ দুর্দশার কথা তুলেধরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।
তার অনুপস্থিতিতে এলাকার লোকজন চরম ভাবে ব্যাথিত হয়েছে এবং মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। তাই আমি এই সংকটে উখিয়া-টেকনাফ বাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে এলাকার দুঃখি মানুষের দিকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
কেএ/বার্তাবাজার