করণা ভাইরাসে সারা বিশ্ব লন্ডভন্ড হয়ে গেলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রনে। সরকারি হিসাবমতে দেশে ৫১ জন করোনা আক্রান্ত হলেও মারা গেছে ৫ জন। এদের মাঝ্যে আবার ২৫ জন সুস্থ হয়ে গেছেন।
বিশ্বের সব দেশে করোনা ভাইরাস যখন দানবীয় রুপ ধারণ করছে তখন বাংলাদেশে এত কম রোগী আশা জাগানিয়া বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবে করোনায় আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরে যে সব উপসর্গ দেখা যায় তেমন উপসর্গ নিয়ে ৩১ জন মারা গেছেন গত ১১ দিনে। সর্দি কাশি শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে এইসব মানুষ মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ যাচাই করে বিশেষ প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়েছে।
১৯ মার্চ: ৩জন
১৯ মার্চ করোনার উপসর্গ আছে অর্থাৎ জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট এমনসব লক্ষণ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ২ জন খুলনার এবং ১জন চট্টগ্রাম নগরীর। খুলনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন ভারত থেকে ভ্রমণ করে দেশে ফিরেছিলেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া এক নারীর মৃত্যু হয়।
২২ মার্চ: ৩জন
ঢাকার টোলারাবাগে সর্দি জ্বর ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে একজন মারা যায়। তিনি ২১ মার্চ করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির প্রতিবেশি ছিলেন। তিনিও একই লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করে করোনা টেস্ট করা হলে ফলাফল পজেটিভ আসে। তবে এই মৃত দুই ব্যক্তির পরিবারের কেউই বিদেশ ফেরত নয়।
অপর দুই জনের ভেতর ৬০ বছর বয়সী একজন ভৈরবে মারা গেছেন। তিনি ইতালী ফেরত প্রবাসী ছিলেন। অন্যজন যুক্তরাষ্ট্র ফেরত প্রবাসী নারী ছিলেন। তিনি ১৬ মার্চ থেকে আইসোলেশনে ছিলেন।
২৪ মার্চ: ৪ জন
এদিন সারাদেশে করোনা আক্রান্তদের মতো উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের ভেতরে সিলেটে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৬৫ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধ, রাজশাহীতে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইসিউতে ভর্তি থাকা ৪৬ বছর বয়সী এক নারী, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা একনারী এবং জামালপুরে এক বৃদ্ধর মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামে যে নারী মারা যান তার এক সপ্তাহ আগে তার মা একই রকম ভাবে সর্দি-জ্বর-শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা যান।
২৫ মার্চ : ২ জন
ঢাকায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় একজন মারা যান। তিনি একটি হাসপাতালের ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকায় তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছিলো।
খুলনায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৪৫ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি মারা যান। প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিলো।
২৬ মার্চ: ৩ জন
এদিন সারা দেশে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৫ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি ঢাকাতে একটি হাসপাতালে করোনায় মৃত ব্যক্তির পাশেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। পরে তিনি স্থানান্তরিত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে থেকেই তারও করোনার উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়।
একই দিনে খাগড়াছড়িতে ঠাণ্ডা, জ্বর ও শ্বাস কষ্টে ভুগে এক আদীবাসী যুবক মারা যান এবং বাসাবো এলাকায় এক ৬৫ বছর বয়স্ক বৃদ্ধ মারা যান।
২৭ মার্চ: ২ জন
এদিন ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ধরনের উপসর্গ নিয়ে। এদের ভেতর একজন বগুরায় শিবগঞ্জে এবং অন্যজন নোয়াখালীর চৌমুহনী উপজেলায় মারা গেছেন। দুজনই জ্বর আক্রান্ত ছিলেন।
নমুনা পরীক্ষা শেষে শিবগঞ্জে মৃত ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন আইইডিসিআর।
২৮ মার্চ: ৩ জন
এই দিন সারাদেশে জ্বর, সর্দি, কাশি শ্বাসকষ্ট উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লালমনিরহাটে ঢাকা থেকে আসার রিকশা চালক জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। একই উপসর্গ নিয়ে বরিশালে এক জন ও নওগাঁয় একজন মারা যান।
২৯ মার্চ : ৭ জন
২৯ মার্চ সারাদেশে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মাঝে বরিশালে ২ জন, পটুয়াখালিতে একজন, মানিকগঞ্জে একজন, ঢাকায় একজন, নড়াইলে একজন ও শেরপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
৩০ মার্চ : ৪ জন
দিনাজপুরে ৪০ বছর বয়সী একজনের জ্বর সর্দি কাশি, শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে, কুষ্টিয়ায় একই উপসর্গ নিয়ে মারা যান এক ইজিবাইক চালক, যশোর জেনারেল হাসপাতালে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া এক শিশু মারা যান। এদিকে শ্রীমঙ্গলে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথার উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বার্তাবাজার/এসজে