ক্যাম্পাসের পোষা কুকুরদের বাঁচাতে রাবির ৩ শিক্ষার্থীর উদ্যোগ!

করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই এখন গৃহবন্দী৷ সারাদেশের অন্য আট দশটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস৷ খোলা থাকা অবস্থায় প্রানবন্ত থাকলেও, বন্ধ ক্যাম্পাস প্রায় একেবারেই প্রানহীন।

ক্যাম্পাসের প্রাণ শিক্ষার্থীরা এই সংকটের দিনে বাড়ি যেতে পারলেও ক্যাম্পাসের এমন কিছু প্রাণী আছে যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই! ক্যাম্পাস খোলা অবস্থায় শিক্ষার্থীরা কিছু খাওয়ার পর উচ্ছিষ্টাংশই হতো তাদের খাবার। এই বন্ধের দিনে সেই সুযোগটিও পাচ্ছিলো না এই প্রাণীগুলো।

বলছিলাম ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে থাকা পোষাপ্রাণী কুকুরগুলোর কথা৷ ফাঁকা ক্যাম্পাসে অভুক্ত এসকল প্রাণীদের জন্য এগিয়ে এলেন রাবির তিন শিক্ষার্থী। তারা হলেন প্রসেনজিৎ কুমার, মাহমুদ সাকি ও ইমামুল বাকের৷

তিন জন মিলে হাতে নিলেন ‘ক্যাম্পাস পোষাপ্রাণী সংরক্ষন প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প! নিজ খরচে রান্না করে খাবার বিলি করেছেন ক্যাম্পাসের অভুক্ত প্রাণীগুলোর মাঝে।

প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, কয়েকদিন কুকুরগুলো না খেয়ে একেবারেই দেখার মত নেই! মানুষ দেখলেই পা জড়ায়ে ধরছে একমুঠো খাবারের আশায়! কিছু একটা করার চিন্তা মাথায় আসছিল সাহস পাচ্ছিলাম না।

মজার বিষয় হচ্ছে আপনি যখন কোন চিন্তা করবেন দেখবেন আশেপাশে কেউ না কেউ একই চিন্তা করছে। পরিবহন মার্কেটে একটি কুকুর পিছু ছাড়ছিলোই না। খিদে মানুষকেই লজ্জা শরম কমিয়ে দ্যায় আর এরা ত কুকুর!

সাকি সাথে ছিলো। ওকে বলতেই দেখি ওর গ্রহ আমার চাইতে বেশি। যেই কথা সেই কাজ… প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে তিনি বলেন, স্বল্প পরিসরে নিজেদের উদ্যোগে আমরা এই প্রজেক্টটা ক্যাম্পাস খোলা আগেরদিন পর্যন্ত চালিয়ে যাবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে নিজেদের খরচে এটা চালাবো।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর