সংক্রমন ব্যাধি করোনা ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রামের মানুষদের সচেতন করতে রাত-দিন নিরলসভাবে কাজ একর যাচ্ছে জেলা পুলিশ কুড়িগ্রাম । গত ২৬ মার্চ সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষনার আগে থেকে কুড়িগ্রামের মানুষজনকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করতে কাজ শুরু করে জেলা পুলিশ । এরপর ২৬ শে মার্চ থেকে প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজস্ব ভিত্তিতে টিম ওর্য়াক করে কাজ করছে পুলিশ ।
জেলার প্রতিটি এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায়,সচেতনতা,লিফলেট বিতরণ,মসজিদে মাইকিং,স্থানীয় ভাষায় গানের মাধ্যমে সচেতনতা,মোড়ে মোড়ে হাত ধোবার ব্যবস্থা,সাবান-স্যানিটাইজার বিতরণ,জেলার স্বেচ্ছাসেবকদের একত্রিকরনে কাজ করা,বাজার গুলোতে মনিটরিং,নিরাপত্তা বিধান,ঔষধ ও মুদি দোকানে রং দিয়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা চিহ্ন দেয়া সহ এধরণের সামাজিকমুলক কাজ করছে জেলা পুলিশ ।

জেলা পুলিশ সুত্রে আরো জানা যায়,জেলার ইউনিয়ন ও চরাঞ্জলগুলোতে বসবাসরত মানুষদের মাঝে করোনাভাইরাস সংক্রমন ও প্রতিরোধ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতা সৃষ্টি হলেও প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে এখনও যথেষ্ট উদাসীনতা লক্ষ করা গেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রচারনাকে গ্রহণযোগ্য ও সহজ করতে কুড়িগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় মাইকিংসহ আচরন ও চলাফেরায় অভ্যাস পরিবর্তনে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বাধ্যতামুলক সামাজিক দূরত্ব নির্দিষ্টকরণ লাল গোলাকার চিহ্ন, নিয়মিত জীবানুনাশক স্প্রে, প্রান্তিক পর্যায়ে আপদকালীন খাদ্য সরবরাহকারী টিম পাঠানোসহ সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ বাহিনী। ফ্রন্ট লাইনে থাকা পুলিশ টিম কোথাও সমস্যা চিহ্নিত করলে ভাইরাস সংক্রমিত এলাকায় কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে পুলিশের “দ্রুত পদক্ষেপ বাহিনী” দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন।

প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিকভাকে সামাজিক কাজ করতে জেলা পুলিশকে সহযোগিতাও করছে উপজেলা থানাগুলো,পাশাপাশি জেলার মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকরা সহযোগিতা করছে । কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লব বার্তা বাজারকে বলেন,”দায়িত্বের বাইরে থেকে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে জেলা পুলিশ যে কাজ করছে তা সত্যি প্রশংসনীয় ।” জিয়া বাজারে মুদি দোকানদার পার্থ ঘোষ বলেন,আমরা সঠিক দামে পন্য বিক্রি করছি,জেলা পুলিশের মনিটরিং বিষয়টা ইতিবাচক ভাবে আমরা নিয়েছি ।” তরুণ সংগঠক কল্লোল রায় বলেন,”স্যার কুড়িগ্রামে যোগদানের পর থেকে,আমাদের জেলায় ভালো ভালো অনেক কাজ করছেন,আমরাও উনাকে সহযোগিতা করছি ।”
এই বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বার্তা বাজারকে বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় পুলিশ যে কোন পরিস্থিতিতে কাজ করে আসছে। সামনের দিনগুলোতেও জনগনকে নিরাপদ রাখতে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় বাধ্যতামুলক করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী এবং সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক করোনাভাইরাস সংক্রমন থেকে জেলাবাসীকে নিরাপদ রাখতে দায়িত্বের বাইরে আমরা কাজ করছি । আমরা চাই সকলের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পারে করোনা কে মপ্রতিরোধ করতে ।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস