সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার সবার প্রিয় ধার্মিক ও রশিক পত্রিকা পরিবেশক করোনার প্রভাবে পেশা বদল করে এখন হয়েছেন ভ্রাম্যমান চা বিক্রতা। তার হঠাৎ পেশা বদল ও করোনা যে মানুষের জীবন থমকে দিতে পারে না তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দীর্ঘ ২৫ বছর স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকার পরিবেশক হিসাবে নিজেকে সকলের কাছ সদা হাস্যউজ্বল মানুষ তিনি।
নোভেল করোনা সারা পৃথিবীকে যখন থমকে দিয়েছেন তখন একটুও দমাতে পারেনি পত্রিকা পরিবেশক বাবুকে। যে মানুষটির পত্রিকা ছুড়ে দেওয়ার শব্দে ঘুম ভাঙ্গতো ঠিক বর্তমান সময় সকলেই যখন ঘরবন্দি ওয়ানটাইম গ্লাসে ও ফ্লাক্স নিয়ে চা পান করানোর দায়িত্বটাও নিয়েছে নিজ হাতে। করোনার প্রভাবে সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন।
দৈনিক পত্রিকা গুলো প্রিন্ট না থেকে অনলাইনে তাই বলে কি বাবুর নিত্য রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে! না করোনাকে জয় করে মুখে মাস্ক পরে সকলকে চা পান করিয়ে নিত্য রোজগার ঠিকই ধরে রেখেছে। ঈমাম হোসেন বাবু কায়িক পরিশ্রমের একজন সফল মানুষ। ভোর থেকেই বিভিন্ন গাড়ী থেকে পত্রিকা নামিয়ে তা পাঠকের হাতে পৌঁছে টাকা নেওয়ার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত এ মানুষটিকে সাইকেল চোড়ে রসের কথা বলে সকলের মনে আনন্দ দিতেই যেন তার জন্ম।
পত্রিকা পরিবেশক বর্তমান ভ্রাম্যমান চা বিক্রেতা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন হালাল জীবিকা আমার অহংকার। বর্তমান পত্রিকা বন্ধ বাড়ীতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই করোনার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা পেতে মুখে মাস্ক পরে নিত্য দিনের রোজগার ধরে রাখতে ভ্রাম্যমান চা বিক্রতা হয়ে নিজেকে গর্বিত মন করি। শত পরিশ্রমের মধ্যেও সততাই আমার মুলধন। সমাজের কাছে আমার কিছু চাওয়ার নেই তবে করোনা প্রতিরোধক একসেট পোশাক দিয়ে প্রশাসন যদি সহযোগীতা করে তবে আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানব সেবা করে যাবো।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন আপাতত বাবুকে হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক দেওয়া হবে। পরবরর্তীতে করোনা প্রতিরোধক পোশাক আসলে দেওয়া হবে।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস