মহামারি করোনা আতঙ্কের মধ্যেও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারীতে পৃথক সংঘর্ষে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ ২০ জন আহত হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামে বসার বেঞ্চ তৈরি করাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বসার বেঞ্চ তৈরি করাকে কেন্দ্র করে চাপুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা কালু ফকিরের গ্রুপের সঙ্গে একই গ্রামের সেকেন্দার গ্রুপের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ছয়জন আহত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত জাকারিয়া ফকির, ইলিয়াছ ফকির ও আহাদ শরীফকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত আফজাল মোল্লা, মাসুদ ফকির ও রবি মোল্লাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনও কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যাইনি।
অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের দুই গ্রামবাসির মধ্যে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘন্টা ব্যাপি সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে ১৪জন।
আহতদের মধ্যে রবিউল শেখ ও আইয়ুব আলী শেখকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ চার রাউন্ড সটগানের ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। এ সময় মো. শাহজাহান ও সেলিম নামের দুই পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১০ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো, ধুলজোড়া গ্রামের শাহজাহান মোল্যা, পরমেশ্বরদী গ্রামের আমির হোসেন, মালিখালী গ্রামের রিদয় শেখ, ধুলজোড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান, আবজাল শরীফ, ডহরনগর গ্রামের জলিল শেখ, হান্নান শেখ, নাজির শেখ, রুপাপাত গ্রামের রবিউল শেখ ও মালিখালীর তারা শেখ।
এলাকাসূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ডহরনগর মাঠে মালিখালী গ্রামের আইয়ুব আলী শেখ ও আমিনুর শেখ পাওয়ারটিলার দিয়ে জমি চাষ করছিল। এ সময় পাশের জমি থেকে পিয়াজ তুলছিল ডহরনগর গ্রামের শাম শেখ। জমি চাষ করার সময় ক্ষেতের ধুলা বাতাসে উড়ে শাম শেখের গায়ে লাগে। এতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আইয়ুব আলী শেখের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ওই ঘটনার সূত্র ধরে ওইদিন রাতে দুই গ্রামবাসি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে চার রাউন্ড সটগানের গুলি নিক্ষেপ করা হয় এবং এ সময় দুই কনস্টেবল আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করেছি। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে। এখন পর্যন্তু কোন পক্ষই থানায় লিখিত অফিযোগ দেয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস