ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার বিভিন্ন বাজারে মানা হচ্ছে না নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব। শরীরে শরীর লাগিয়ে বাজার করছেন সকলেই। শনিবার (২৮ মার্চ) সরেজমিন আশুলিয়ার দোসাইদ বাজার ও পানধোয়া বাজার ঘুরে এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখা গেছে। বাজারে প্রচন্ড ভীড়ে মালামাল ক্রয়রত সাধারণ মানুষ তিন ফুট দূরত্বের বিষয়টি আমলেই আনছেন না কেউ।
এদিকে, ঢাকা আরিচা মহাসড়ক দৃশ্যত ফাঁকা দেখা গেছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাহাঙ্গীরনগর বিশমাইল গেট থেকে সাভারের রেডিও কলোনী পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার উভয়পাশের দোকানপাট সব বন্ধ।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মহাসড়কে প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের গাড়ি, ট্রাক-কাভার্ভ ভ্যান সহ জরুরী ঔষধ পরিবহনে নিয়োজিত কিছু যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া বিক্ষিপ্তভাবে কিছু থি-হুইলারে যাত্রীরা চলাফেরা করছেন। এসব এলাকার বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষমান অনেক নারী-পুরুষ যাত্রীদের দেখা গেছে।
একদিকে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশে চলমান সরকারি বিধিনিষেধ এর প্রতি এই এলাকার সাধারণ মানুষের এমন নির্বিকার মনোভাব যেখানে সংক্রমণের শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে, পাশাপাশি এই বিধিনিষেধ এর বেড়াজালে আবদ্ধ সাধারণ খেটে খাওয়া দৈনিক রোজগারের উপর নির্ভরশীল মানুষের আসন্ন দূর্বিসহ অবস্থার কথা চিন্তা করে এর নিরসনে এখনই পদক্ষেপ নেয়াটাও খুব জরুরী।

তবে আশার কথা, এসব অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ। শনিবার বিকালে আশুলিয়ার গৌরিপুর এলাকায় রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ তার এলাকার ৫শত খেটে খাওয়া মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যাদি যেমন চাল, ডাল, আলু এবং সাবান ও পরিধানের মাস্ক বিতরণ করেন।
বার্তাবাজারকে তিনি জানান, আল্লাহপাক তাকে সামর্থ্য দিয়েছেন, এজন্য এর শুকরিয়া আদায় ও নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি তার সামর্থ্য অনুযায়ী নিজ এলাকার অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশে এই মহামারি চলাকালীন তিনি এদের পাশে এভাবেই থাকবেন জানিয়ে অন্য সকল বিত্যবানদেরকে নিজ এলাকার অসহায়দের পাশে দাঁড়াবার আহবান জানান।
এদিকে, আশুলিয়ার গৌরিপুর এলাকায় রাজু কমিউনিটি সেন্টারের সামনে রাস্তার পাশে চলাচলরত পথচারিদের হাত ধোয়ার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ চলাচলের সময় নিজের হাত ধুয়ে নিচ্ছেন।

এব্যাপারে রাজু আহমেদ জানান, দেশের চলমান এই সংকটের সময় সাধারণ মানুষ হাত ধোয়ার ব্যাপারটি যেন গুরুত্বের সাথে নেয়, এজন্যই রাস্তার পাশে আমি নিজ উদ্যোগে এই পানি ও সাবান রেখে দিয়ে সকলকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। আশার কথা, এই রাস্তা দিয়ে চলাচলরত অনেকেই এখান দিয়ে যাবার সময় তাদের হাত ধুয়ে নিচ্ছেন।
কেএ/বার্তাবাজার