গোপালগঞ্জের সংবাদকর্মীদের পিপিই ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালন
গোপালগঞ্জে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংবাদ জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে নিজেদের জিবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করছে গোপালগঞ্জের সংবাদকর্মীরা। সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপদ পোষাক ও পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট(পিপিই ) প্রয়োজন।
করোনা ভাইরাসের এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়েও পেশাগত দায়িত্ব থেকেই মাঠে রয়েছে সংবাদ কর্মীরা। সাধারণ মানুষের কাছে করোনা ভাইরাস এর সর্বশেষ খবর টি পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা।
গোপালগঞ্জ জেলায় টেলিভিশন, প্রিন্ট, অনলাইন মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করছেন কয়েক`শ সংবাদকর্মী। জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় সংবাদকর্মীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ সংবাদকর্মীরা দেশের সার্বিক অবস্থা, বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংবাদ সংগ্রহের বিভিন্ন কাজে বাড়ীর বাইরে থাকছেন।
কোন রকম ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ পিপিই ছাড়াই নিয়মিত পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। এমনতো অবস্থায় নোভেল করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে সংবাদকর্মীরা।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল হক আরিফ বলেন, সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা যেখানে সংবাদকর্মীদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকেই। ঝুঁকির মাঝেই তাদের কাজ করতে হয় এবং মাঠে থাকতে হয় কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আমাদের সংবাদকর্মীদের জন্য কি করা যায় সে বিষয়ে সরকারের কাছে আমরা আহবান জানাই এবং সারাদেশে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় পত্রিকাগুলো আছে তারা নিজেরাই আর্থিক অসচ্ছল। ফলে তাদের পক্ষে পিপিই জাতীয় সুরক্ষা কিট সম্ভব নয়। তাই আমি সকল সংবাদকর্মীদের আহ্বান জানাবো নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ করতে।
সম্মিলিত সংবাদিক পরিষদ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব এম.আজমানুর রহমান বলেন, সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। দেশের মানুষ যখন ঘরে থাকে তখন সাংবাদিকরা মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দিতে কাজ করে।
কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। একটি রোগের সাথে সারা পৃথিবী যুদ্ধ করছে এবং সে যুদ্ধে সাংবাদিকরাও রয়েছে। তবে এটাও সঠিক যে, মাঠে কাজ করার সময় করোনা প্রতিরোধে যে ধরনের ইকুইপমেন্টের সাংবাদিকদের প্রয়োজন তা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করছে না। সরকারি ও বেসরকারিভাবেও সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়নি।
ফলে তারা ঝুঁকি নিয়েই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তাই আমরা সরকারের কাছে এবং স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি জানাবো সাংবাদিকদের পিপিই দেয়া হোক। যাতে তারা শুরু থেকে এদের কাজ করতে পারে।
সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজের সুরক্ষা প্রথমে। নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত রেখে ঘরের ভেতর থেকে ভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এবং তা যাচাই-বাছাই করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিবেন।
কেএ/বার্তাবাজার