অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীর নগ্ন ছবি সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্রের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে শালিসী সভায় সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ওই ভিকটিম ও তার পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ১২টার দিকে সাতক্ষীরার আলীপুরের তালবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ওই ভিকটিমকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আলীপুরের তালবাড়ি গ্রামের জাহিদ হাসান জানান, তার শালিকা আলীপুর বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। একই গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে নাহিদ আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র। শ্যালিকা ও নাহিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাহিদ তার শ্বশুর বাড়িতে এসে শালিকার সঙ্গে সেলফিতে আপত্তিকর নগ্ন ছবি তোলে। ওই ছবি নাহিদ তার বন্ধুসহ বিভিন স্থানে ছড়িয়ে দেয়। তিনি (জাহিদ) ওই ছবি দেখার পর নাহিদর বাবা ও মাকে বিষয়টি অবহিত করে প্রতিকার প্রার্থনা করেন।
তারা কোন গুরত্ব না দেওয়ায় ২৫ মার্চ তার স্ত্রী বাদি হয়ে নাহিদের নামে সদর থানায় পর্ণোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করে
ন। মামলা করার পর থেকে নাহিদের বাবা ও মা মামলা মিটিয়ে নিতে তাদেরকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তার শ্বশুর বাড়ির বারান্দায় উভয়পক্ষকে নিয়ে শালিসি সভা বসে।
সভায় সদর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য আবদুল্লাহ , ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান লাল্টু, নাহিদের চাচা সাজ্জাদ, আনছার, আফছার, পার্শ্ববর্তী ছিদ্দিক, বাচু, নাহিদের বাবা ও মাসহ কমপক্ষে ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন শালিসি সভায়। ভিকটিমকে বিয়ের জন্য তারা প্রস্তাব দেন। তবে নাহিদেরও পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার খরচ দেওয়ার কথা বলা হয়।
একপর্যায়ে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শালিস শেষ হলেও আগামিতে আবারো বসাবসির কথা হয়। শালিস শেষে অনেকে চলে যাওয়ার পর ভিকটিম পরিবারকে একঘরে করতে বাড়ির সামনে দিয়ে ঘেরা দেওয়া শুরু করে।
এ নিয় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছিদ্দিক ও জব্বারের নির্দেশে ভিকটিম শালিকা, তার স্ত্রী, ছোট শালিকা ও শ্বশুরকে উঠানে পিটিয়ে জখম ও পরবরর্তীতে বাড়ির পাশে ডোবার মধ্যে ফেলে দ্বিতীয় দফায় মারপিট করে জখম করে আব্দুস সামাদ, তার ছেলে সোহাগ, জব্বারের ছেলে জিকো, জনি, ছিদ্দিক সরদারের স্ত্রী, ছেলে ইমরান, রায়হান ও জাহিদসহ কয়েকজন।
তাদেরকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কেবলমাত্র ভিকটিম শালিকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদেরকে জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎিসা দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মিজানুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষের দাবি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একদিন পর অবারো বসার কথা বলে তিনি চলে আসেন। পরে আবারো মারপিট করে ভিকটিম, তার বাবা, বোনকে মারপিট করা হয়েছে। এটা সঠিক হয়নি।
ছিদ্দিকুর রহমান জানান, শালিসি বৈঠক শেষে পুকুর পাড়ে বসাকে কেন্দ্র করে মারিপটের ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। তবে ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এ নিয়ে শনিবার বিকেল সাড় ৫টা পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
কেএ/বার্তাবাজার