রাজধানীর দক্ষিণখানে আশকোনা বাজারে এক স্বর্ণব্যবসায়ীর নিকট এভাবেই চাঁদা দাবী করে স্হানীয় কিছু চাঁদাবাজ। অবশেষেগত ৩মার্চ ২০২০ইং দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোঃ মোকলেছুর রহমান(৩৭)। যার নং- ১০।০৩-০৩-২০২০ইং ধারা, ৩৪২/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০।
সারাদেশ যখন করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) এ আতঙ্কিত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন সবাইকে ঘর থেকে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞাজারী করেন ঠিক তখনই একশ্রেণির চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে চাঁদা দাবী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেসাধারণ মানুষেরকে।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, মোঃ আতাউর রহমান (২৮), পিতা- আঃ কাশেম, সোহেল চৌধুরী লাভলু(২৪) ওমোঃ শাকিল(২২) নামীয় একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবত আশকোনা এলাকায় সক্রিয় চাঁদাবাজিসহ মাদক ব্যবসাপরিচালনা করে আসছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী জনাব মোকলেছুর রহমান এই প্রতিবেদককে জানান- “আসামী আতাউররহমান ব্যবসায়ীক কারনে আমার জুয়েলারি দোকানের গ্রাহক। প্রায়ই সে আমার দোকানে আসা যাওয়া করতো। বিগত সাত মাসপূর্ব থেকে আতাউর আমাকে চাঁদা দিতে হবে বলে চাপ দিতে থাকে। সে বলে- আমাকে চাঁদা না দিয়ে এই এলাকায় ব্যবসা করতেদিব না।
সে চাঁদা হিসেবে ৫৩,০০০০০/- টাকা, কখনো ৮৩,০০০০০/- টাকা কিংবা কখনো এককোটি টাকা দাবী করে আসছে।আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে গত ২৩-০১-২০২০ইং তারিখে রাত আনুমানিক নয়টার সময় আমার দোকানে আতাউরসহকয়েকজন প্রবেশ করে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। তারা দোকানের কেঁচি গেট ও সার্টার নামিয়ে আমাকে জিম্মি করে।
আতাউরআমার ক্যাশ বাক্সে থাকা স্টান্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড, আশকোনা শাখার চেক বই বের করে সাতটি ব্লাংক চেকবই এর পাতা যারনং- A0353644 হতে A0353650 ছিনিয়ে নেয়। আর ১০০টাকা মূল্য মানের তিনটি সাদা স্টাম্পে আমার সাক্ষর নেয়।
আরোহুমকি দিতে থাকে যে, আমি বেশী বাড়াবাড়ি করলে আমাকে নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসিয়ে দিবে নয়তো প্রাণে মেরে ফেলবে।আমি বিভিন্ন উপায়ে আমার চেকবই এর পাতা ও স্বাক্ষরিত ব্লাংক স্টাম্প উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে গত ০৩-০৩-২০২০ইং বাধ্য হয়েইদক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করি।
দক্ষিণখান থানায় উক্ত মামলার আইও সাব-ইন্সপেক্টর জনাব আসাদুজ্জামান আসাদ জানান- “আমি এক নং আসামীআতাউর রহমানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে। কিন্তু চেক ও স্টাম্পদিতে অস্বীকার করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ পূর্বক আদালতে প্রেরন করি। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টাচলছে”।
বার্তা বাজারের অনুসন্ধানী টিম আতাউর রহমানসহ তার সঙ্গীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে আতাউর সম্পর্কেঅজানা অনেক তথ্য ও তার কোটিপতি হওয়ার উপাত্ত হাতে এসেছে। আগামী পর্বে আসছে বিস্তারিত।
কেএ/বার্তাবাজার