রোগী শূন্য হাসপাতাল, আতঙ্কিত চিকিৎসকরাও

রোগ-বালাই হলে মানুষ হাসপাতালে ছুটে গিয়ে শরণাপন্ন হন চিকিৎসকের। প্রাণ রক্ষাকারী সেই প্রতিষ্ঠান রোগীশূন্য। রহস্যময় প্রাণঘাতী করোনার আতঙ্কে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে রোগী শূন্য।

জানা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন অর্ধ সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাড়ি ফিরত। অনেক সময় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে সিট না পেয়ে রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হতো।

শুক্রবার হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ওয়ার্ডের অধিকাংশ বেড খালি। পুরুষ ওয়ার্ডে মাত্র ৩ জন আহত রোগী এবং মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ২জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছে। এমন বিপরীত চিত্রের কারণ করোনা আতঙ্ক। এ আতঙ্ক ছুঁয়েছে চিকিৎসকদেরও।

সরেজমিনে হাসপাতালে কথা হয় কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে। তারাও করোনা প্রতিরোধ সরঞ্জাম না পাওয়ায় ভীতিকর অবস্থায় আছেন বলে জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন ভর্তির চাপ এত থাকতো যে মাঝে মাঝে হিমসিম খেতে হতো।

৫০ শয্যার হাসপাতালে গড়ে ৭০ থেকে ৭৫ জন রোগী ভর্তি হতো। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর সেই চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।করোনাভাইরাস আতঙ্কে এ উপজেলার জনসাধারনের মাঝেও এর প্রভাব পড়েছে। এতে ভয়ে রোগীরাও চিকিৎসা নেয়ার জন্য কম আসছে। যারা ভর্তি ছিল তারাও আতঙ্কে বাড়িতে চলে গেছে।

হাতেগোনা যে কয়েকজন রোগী আছেন তারা অতি দুস্থ পরিবারের। ওষুধ কেনার সামর্থ্যহীন রোগীরা শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সামর্থ্যবানরা পারিবারিকভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন নিজ বাড়িতে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বার্তা বাজারকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের উপসর্গ বহনকারী কোন রোগী এ পর্যন্ত উপজেলায় পাওয়া যায়নি। তবুও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য এখনও পর্যন্ত আমাদের এখানে পৌঁছেনি কীট। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা করে যাচ্ছে।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর