বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে গোপালগঞ্জ জেলাকে সীমিত চলাচলের ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এরপর থেকে ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলার মূল সড়কগুলো ফাঁকা থাকলেও শহর ও শহরতলীর অলিগলি এবং প্রত্যন্ত এলাকার ভিতরের দোকানগুলোতে ভীড় করছে জনসাধারণ। তার পাশাপাশি এলাকার খেলার মাঠেও রয়েছে ভীর।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারে সেনা সদস্যরা গোপালগঞ্জে এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং মাঠে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। তারা জেলা শহরসহ ৫টি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় টহল দিচ্ছে।
সরেজমিন ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, মঙ্গলবার থেকেই গোপালগঞ্জ জেলাকে সীমিত রাখার ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছে পুলিশ।
বুধবার বিকেলে প্রশাসনের তৎপরতার কারণে মূল সড়ক ফাকা হয়েছে। সচেতন জনসাধারণ তার নিজ বাসা-বাড়িতে অবস্থান করছে। অসচেতন জনসাধারণ তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মূল রাস্তায় থাকতে না পারায় তারা শহর ও শহরতলীর ভিতরের গলির দোকানে ভিড় করছে। আর বিকালে গ্রামের চায়ের দোকেনে মিলছে হাট বাজারের মতো ভীর।
জেলার পৌরসভা ও উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মূল সড়কে সংযোগ সড়কে গড়ে ওঠা ছোট-খাটো চায়ের দোকানে আড্ডা জমাচ্ছে। তারা বিভিন্ন জনে বিভিন্নভাবে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে আড্ডা দিচ্ছে। এদের মধ্যে শতকরা ২জনে মাস্ক ব্যবহার করলেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অসচেতন তারা।
গ্রাম্য এলাকার মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, করোনা শহরের ও ধনী ব্যক্তিদের জন্য রোগ। এটা আমাদের কাছে আসবে না। আমরা নামাজ পড়ি, পাক-সাফ থাকি। আমাদের কিছু হবে না। এক মহিলা জানান, আমরা সাদা পাতা (তামাক) দিয়ে পান খাই, যারা পান খায় তাদের কাছে করোনা যায় না।
আবার অন্য দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আমাদের এখানে প্রবাসীরা হোম কোয়ারেন্টাইন সঠিকভাবে পালন না করলে বা নতুন প্রবাসীরা আসলে সে ব্যাপারে ইউএনও স্যারকে জানালে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয় না বরং আমাদের বলে তাদের কাছে গিয়ে ফোন ধরায় দেন আমাকে বা আপনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেন তাকে।আমরা তেমন কোনো সহয়তা পাচ্ছি না বরং ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।
ভয়ের প্রধান কারণ, এখানে সম্প্রতি প্রবাস ফেরত মানুষের সংখ্যাধিক্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল বলছেন, “বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১জন থেকে ১ লাখে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৬৭ দিন।২য় ১লাখ আক্রান্ত হতে সময় লেগেছে ১১দিন। কিন্তু ৩য় ১লাখ আক্রান্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ দিন।
মূলত নজিরবিহীন ছোঁয়াচে এই রোগটি ছড়ায় জ্যামিতিক হারে। আর জনগোষ্ঠী বেপরোয়া ও বেআক্কেল হলে তো কথাই নেই। দেখি কি হয়, দেখি কি হয়। ধরি মাছ না ছুঁই পানি, এই মনোভাব বাঙালির ঐতিহ্য বলা হয়ে থাকে, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে যখন কোমরে গামছা দিয়ে মাত্র কয়েকজন ইংরেজ ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো, তখন পলাশীর প্রান্তরের অদূরেই কৃষকেরা গলা ছেড়ে গান করে হালচাষরত ছিল। তারা যদি সেদিন তাদের ক্ষেতের একটি করে ঢিলও ইংরেজকে ছুঁড়ে মারত, তাহলে ইংরেজ সেদিন চর্বিত ঘাসের ন্যায় হয়ে যেতো।
বাঙালিকে দু’শ বছরের জন্য স্বাধীনতা হারাতে হতো না। কিন্তু “তৈলঢালা স্নিগ্ধতনু নিদ্রালসে ভরা” বাঙালি বুঝতেই চায়না যে, সময় গেলে সাধন হয় না। এই বাঙালি আবহমান বাঙালি, এর মধ্যে শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-নির্ধন, শাসক-শাসিত, পেশাজীবী- পলিছিমেকার সকলেই আছেন।
আমাদের আছে কয়েকডজন ঢিভি চ্যানেল, আর ঢাকা থেকে প্রতিদিন আসছে ৪০/৪৫ প্রিন্ট মিডিয়া এবং জেলা প্রশাসন সহ বেশ কিছু সেচ্ছাসেবী সংগঠন জনসচেতনতায় মাইকিং এর মাধ্যমে চালাচ্ছে প্রচার-প্রচরণা। তারপরও সাধারণ মানুষের কাছে ‘করোনা’ নামটিই সঠিকভাবে আমরা পৌঁছাতে পারিনি, এ আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা। আসুন, সচেতনতা সৃষ্টির কাজটিই করি। এখনো সময় আছে।
তিনি আরো জানান, আমার পরিবার শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আপনজন আপনারা, সকলের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। ভালো থাকুন, সাবধানে থাকুন সকলে। আসুন, আশাবাদী হই, আকাশের কার্নিশে জমে থাকা ওই মেঘ বজ্র হয়ে আঘাত হানবেনা; আশীর্বাদের বৃষ্টি হয়ে সবুজ-শ্যামলিমায় ভরে দেবে আমাদের এই রক্তে কেনা সোনার বাংলাদেশকে আর এই সুন্দর ধরণীকে।
বিপদ কেটে যাবে অচিরেই, বিশ্ব প্রতিপালকের সাহায্য অতি সন্নিকটে,যদি আমরা বিশ্বাসী হই। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের প্রেস রিলিজে জানায়,বিশেষ কাজ ছাড়া সকলকে বাসার বাইরে না যেতে অনুরোধ।
কেএ/বার্তাবাজার