কুড়িগ্রামে চলছে অঘোষিত লকডাউন, চিন্তায় নিম্ন আয়ের মানুষ

দেশজুড়ে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি। জেলা শহরগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশের মতো উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামেও চলছে ব্যাপক তৎপরতা। জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম পৌরসভা সহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা কাজ করছেন জোরেসোরে।

জেলা পুলিশের তরফ থেকে জেলার ৯ উপজেলাতে কালীবাড়ি, বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের করোনা মোকাবেলায় সচেতন করা হয়েছে।১০ দিনের ছুটির কারণে বিপাকে পড়েছেন জেলার নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা। ঘরে বসে পার করছেন অলস সময়।

নেই কোন কাজ,অভিযোগ করছেন প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ার । সদরের কাঁঠাল বাড়ি রিক্সাচালক কৃষ্ণ বর্মন বলেন,”মোর সংসারত ৫ জন,সকাল থাকি এল্যা (এখন)১টা বাজে মাত্র ৩০ টাকা কামাই(আয়) করছোং।

উলিপুরের ক্ষুদ্রবীজ ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ” দু একদিনের মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে রাখতে হবে, ক্রেতা নেই বললেই চলে। আগে জীবন বাঁচাতে হবে। তবুও আমরা তো গরিব মানুষ, কদিন পর দারুণ আর্থিক কষ্টে পরতে হবে।”

পানের দোকানি মঞ্জু মিয়া বলেন,” দোকান বন্ধ করতেছি, কাস্টমার নেই। খোলা রেখে লাভ নেই। সবাই বাড়িতে থাকে, এভাবে চলতে থাকলে আমরা গরীবেরা বিপদে পড়বো”।

জেলার পুরাতন থানা পাড়ার চায়ের দোকানদার সুমন মোহন্ত জানান,”সরকারি ছুটির কারণে দোকান বন্ধ করেছি, ১০ দিনের ছুটিতে আমি ৩ দিন ভালোভাবে চলতে পারবো, বাকি দিনগুলো নিয়ে চিন্তায় আছি।”

অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের বাজারগুলোতেও বাড়তি দাম নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, বাজারে সবজি কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে জানান, ৪০ টাকার পটোল ৬০ টাকা কেজি করে নেয়া হচ্ছে, অন্য দিকে কাঁচা বাজারের সবজিগুলো কেজিতে ১০-২০ টাকা করে বাড়তি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা।

শুক্রবার জেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি মুদি দোকান খোলা থাকলেও সেগুলোতে নেই মূল্য তালিকা । কাঁচাবাজার, ফার্মেসি ও নিত্যপণ্যের মুদি দোকান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে সন্ধ্যার পরপরই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে হাটবাজার।

কাঁচাবাজারগুলোতে আসা পণ্যবাহী গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনে জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা।গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ফাঁকা হয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। শহর ও গ্রামের রাস্তায় দুই-একটি রিকশা, অটোরিকশা দেখা গেলেও যাত্রী পাচ্ছেন না চালকরা। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন সব ধরনের শ্রমজীবী মানুষ।

করোনা সতর্কতায় যানবাহনসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া রিকশাচালক, ভ্যানচালকসহ বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের সহায়তার জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ

ই টাকা দিয়ে প্রতি উপজেলায় দুই শতাধিক কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের তালিকা করে প্রতি জনকে ১০ কেজি করে চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল ছাড়াও লবণ ও সাবান কিনে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বরাদ্দের টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক। শনিবারের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বরাদ্দের টাকা জেলার ৯ উপজেলায় নির্দেশনা দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের তালিকা করে বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

আমাদের কাছে ত্রাণের যে চাল মজুদ আছে সেখান থেকে ১০ কেজি করে চাল এবং বরাদ্দ পাওয়া টাকায় আলু, ডাল, লবণ ও সাবান কিনতে বলা হয়েছে। শনিবারের মধ্যে তালিকা করে এসব পণ্য প্যাকেট করে বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর