নাটোরে ভিন্ন রূপে টহলে সেনা সদস্যরা

দেশের জাতীয় দুর্যোগ, ক্রান্তিকাল আর সঙ্কটলগ্নে মানবতার সেবায় সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে বহুবার। এবারও মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সামাজিক দূরুত্ব সৃষ্টিসহ জনসচেতনায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নাটোর শহরসহ আশপাশের এলাকায় টহল শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তবে এবার সেনাবাহিনী তার চিরাচরিত টহলের পাশাপাশি প্ল্যাকার্ড-মাইক হাতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে নেমে মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। প্ল্যাকার্ডে লেখা স্লোগান ছিলো- ঘন ঘন হাত ধুই/করোনা থেকে নিরাপদ রই, আতঙ্ক না ছড়াই/সতর্ক থাকতে সাহায্য করি, বিদেশ থেকে এসেছি যারা/কোয়ারেন্টাইনে থাকবো তারা। এসব স্লোগানগুলোই মাইক দ্বারা ঘোষণা করে সেনাবাহিনী।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই সেনা সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। বগুড়ার মাঝিরা সেনানিবাস থেকে আসা সেনা সদস্যরা শহরের বড়হরিশপুর এলাকার টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে ক্যাম্প করে রয়েছেন। মেজর কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে সেনাদল মাঠে কাজ করছেন। কোথাও যেন জনসমাগম না হয় বা জনগন যাতে অযথা বাহিরে না বের হয়ে বাড়িতে অবস্থান করে সে বিষয়ে তারা নজরদারি করছেন। মানুষকে করোনা সম্পর্কে বোঝাচ্ছেন তারা। সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনগণকে বাড়িতে নিজে নিরাপদে থাকার ও অপরকে নিরাপদে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়াও করোনা আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যেন কেউ বাড়াতে না পারেন সেবিষয়টি তারা নিশ্চিত করছেন।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, নাটোর জেলা প্রশাসনের ১৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে একযোগে মাঠে নেমেছে। ১৫টি মোবাইল কোর্টের মধ্যে নাটোর শহরে ৪টি এবং জেলার সাতটি উপজেলায় ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত জনসমাগম এবং আড্ডাস্থল থেকে সাধারণ মানুষদের সরিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে।

অপরদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রিক্সা, অটোরিক্সা ও ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জরুরি প্রয়োজনে একজনের বেশি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলাজুড়ে পুলিশের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে জরুরি প্রয়োজনে দুইজন একসঙ্গে না চলার পরামর্শ দিশেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্যই এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল ইসলাম ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর