সড়কে নেই গণপরিবহন, পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ছুটি ঘোষণায় বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আজ (২৫ মার্চ) বুধবার ঢাকা থেকে মাওয়া উদ্দ্যেশে রওনা হওয়া যাত্রীরা গাড়ি না পেয়ে কেরানীগঞ্জের উপর দিয়ে হেটেই রওনা হয়েছেন লাখো যাত্রী।

মহাসড়কে গণপরিবহন বা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গাড়ির দেখা মিলছে না। বাস স্ট্যান্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন বাড়িমুখী মানুষ।

গাড়ি না পেয়ে অনেকে তাই বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই নিজ গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন। কেউ আবার মটর সাইকেল, ট্রাক ও পিকাপে করে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এদিকে মাওয়াগামী যাত্রীবাহী গাড়ী গুলো ঢাকার বুড়িগঙ্গা প্রথম ও দ্বিতীয় সেতুতে আসা মাত্রই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গাড়ী থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিলে যাত্রীরা কোন উপায় না পেয়ে পায়ে হেটেই নিজ গন্তব্যের দিকে ছুটছেন।

পোস্তগোলা থেকে সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া প্রায় ১০ কিলোমিটারের দূরত্ব। সেখানেও দেখা গেছে হেঁটে চলা হাজারো যাত্রী। বিক্রমপুরের উদ্যেশে রওনা হওয়া আঃ মালেকের কাছে হেটে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না যেয়ে উপায় আছে? আমরা দিন মজুর মানুষ, দিন আনি দিন খাই।

ঢাকা শহর থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে এর মধ্যে আবার বাসা ভাড়া আছে। তাই কোন উপায় না পেয়ে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়ির দিকে যাচ্ছি। রাস্তায় কোন গাড়ি নাই।

আমাদের মত সবাই হেটে হেটে যাচ্ছে। আল্লাহ যদি আমাদেরকে শক্তি দেয় তাহলে আমরা হেটেই বাড়ি যাবো। এছাড়া গোপালগঞ্জের উদ্যেশে রাওনা হওয়া মাসুদ নামের এক ব্যাক্তি স্ত্রী সন্তান নিয়ে পায়ে হেটে রওনা হয়েছেন বাড়ীর উদ্যেশে।

তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রিক্সা চালিয়ে ভাত খাই। এখন কোন কাজ নেই, ভাতও নেই। তাই দেশে চলে যাচ্ছি। আমরা গাড়ীতেই বাড়ি যাচ্ছিলাম কিন্তু গাড়ী পোস্তগোলা ব্রিজে আসা মাত্রই আমাদের নামিয়ে দিয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। নিরুপায় হয়ে পায়ে হেঁটে রওনা করেছি। দেখি পদ্মা পাড় হয়ে গাড়ী পাই কিনা।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সামজিদা পারভীন বলেন, সরকারের ঘোষণা মতে কোন যাত্রীবাহী গাড়ী চলবে না।

তাই আমরা কেরানীগঞ্জের উপর দিয়ে কোন যাত্রীবাহী গাড়ী মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার যেতে দিচ্ছি না। আমরা পায়ে হেঁটে চলা মানুষ কেও যেতে বাঁধা দিচ্ছি কিন্তু কোন মতেই আটকানো যাচ্ছে না।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর