জোৎস্না, ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা। অন্যসব দিনের মতই বাসায় বাসায় কাজ করতে গেলেও এখন থেকে তার সতর্কতাটা যেন একটু বেশিই। প্রায় সব বাসায় ঢুকেই আগে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোঁয়া লাগছে তার। এর পরে যা করুক না কেন কোনো বাসায়ই আর কেউ তেমন একটা ভ্রূক্ষেপ করে না।
যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ৎতের খুচড়া মাছ বিক্রেতা আছলাম উদ্দিন। তিনিও জোৎস্নার মত হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধুলেও জীবিকার তাগিদে আর করোনার থেকে বেঁচে থাকার পদ্ধতিগুলো মানছেন না। আর হোম কোয়ারেন্টাইন তো দূরে থাক।
কোভিড- ১৯ সোজাসাপ্টা ভাবে বাংলাদেশিদরে কাছে পরিচিত করোনা ভাইরাস নামে। বাংলাদেশে এর ধাক্কাটা ইতালি ফেরত প্রবাসীদের মাধ্যমে হলেও এটা বাংলাদেশিদের কাছে চায়নিজ ভাইরাস হিসেবেই গন্য। আর আরোও একটি পরিচিত শব্দ, কোয়ারেন্টাইন।
কোয়ারেন্টাইন শব্দটার বাংলা অর্থ হলো সঙ্গরোধ। যার মানে আপনাকে আলাদা থাকতে হবে। উইকিপিডিয়া অনুসারে- “সঙ্গনিরোধ বা সঙ্গরোধ বলতে কোনও সংক্রামক ব্যাধি বা মহামারীর বিস্তার প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে মানুষের মুক্তভাবে চলাচল এবং কখনও কখনও কোনও বিশেষ দ্রব্যাদির পরিবহনের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে বোঝায়”।
উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যাবে কোভিড-১৯ এ বিপর্যস্ত ইতালি, স্পেন কিংবা চীনে শহরগুলো পুরোপুরি বিছিন্ন হয়ে হয়ে আছে, নাগরিকরাও মেনে চলছে কোয়ারেন্টাইন। আর জাপান, সিঙ্গাপুর, মালায়শিয়া এরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের কারনে কোভিক-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যাটা খানিকটা এখনো নিয়ন্ত্রণে।
যেখানে কোভিড-১৯ এর ছোবলে মার্কিন মূলুক পর্যন্ত কেঁপে ওঠে সেখানে বাংলাদেশিদের কাছে কোয়ারেন্টাইন এখনো ছেলেখেলাই রয়ে গেলো। প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষতো ভাবছে এদেশে করোনা কিছুই করতে পারবে না। গত দিনগুলোতে যেখানে মিরপুরের ভবনগুলো লক ডাউন হচ্ছে আর মানুষ যেন সেসব বাড়ির সামনে ভীড় জমাচ্ছে।
এটা আবার নতুন চিড়িয়াখানা নাকি। সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিগুলো তাই তুলে ধরছে। ভেসে আসছে আরোও ছবি, লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়াতে বাস টার্মিনালে উপচে পড়া ভীড়। গত রাতে শিমুলিয়া ঘাটে আটকা পড়ে ৫০ হাজারেরও অধিক যাত্রী।
যারা করোনা আতঙ্কে আতঙ্কিত, জীবন বাঁচাতে তারা শহর ছাড়ছেন কিন্তু যাওয়ার পথেই কোভিড-১৯ নিয়ে যাচ্ছেন, তারা বরঞ্চ গ্রামে গিয়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। অনেকে মনের অজান্তেই বৃদ্ধ বাবা-মার জন্যে উপহার হিসেবে কোভিড-১৯ ই নিয়ে যাচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়াতে ভেসে আসছে ট্রলের বন্যা কেউ বলছে তারা নিজেই করোনা, কিংবা গরীবদের কিসের করোনা। সেই সাথে তো গুজবের ঘনঘটা।
আজকের আমাদের এই অবস্থাটা হলো ইতালির ১৫-২০ দিণ আগের ঘটনা। মৃতের সংখ্যাটা ঠিক কত পৌছাতে পারে তা এখন না বলা গেলেও হয়তো বাংলাদেশের মানুষের সঠিক সিদ্ধান্তও সচেতনতার অভাবে কিছুই হয়তো সঠিক দিকে আগাচ্ছে না। এখনই সময় সচেতন হওয়ার।
আজ থেকেই সেনাবাহিনীর টহল, আছলাম উদ্দিন আড়ৎ এ যেতে পারলেও আগের মত হয়তো অন্যদের সাথে খোশগল্প হবে না। জোৎস্নার বাড়ি যাওয়া হলেও হয়তো হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোঁয়া হবে না। দিনমজুররা ভাবছেন খুদার জ্বালা নিয়ে, করোনা নিয়ে ভাবার সময় তাদের নেই। আমাদের অবস্থাটা এখন এমন দাঁড়িয়েছে পুরো দেশ লক ডাউন হলেও, আমরা অনেকেই বেড়িয়ে দেখবো লক ডাউন মানে কি?
সবাই কি বাসায় কোয়ারেন্টাইনে নাকি বাইরেও আগের মত মানুষ আছে।প্রতি এলাকায়ই কাফনের দোকান গুলোর দোকানিরা বাড়তি করে কাপড় এনে রেখেছেন। কাদের যেন জানাজা ছাড়াই কবরের কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়।
বার্তাবাজার/কাফিল