করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে গত ১ সপ্তাহ ধরে সারবাহী কোন জাহাজ আসছে না। এতে এ বন্দরটি কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে হাতে কাজ না থাকায় এ বন্দরের প্রায় ৭‘শ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ দিকে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও সমিতির নিকট থেকে কড়া সুদে ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অনেকেই।
এ ছাড়া সার সরবরাহ বন্ধ থাকায় চলতি সেচ মৌসুমে উত্তরা লের ১৬ জেলায় সারের কৃত্রিম সংকটের আশংকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বন্দর লেবার এজেন্ট ও শ্রমিকরা এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে সরেজমিনে গেলে শ্রমিক আজিবর খান, আলা উদ্দিন ও আল মাহমুদ জানান, করোনার প্রভাবে গত ১ সপ্তাহ ধরে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে সারবাহী কার্গো-জাহাজ আসা বন্ধ রয়েছে। ফলে এ বন্দরে আমরা কর্মরত প্রায় ৭‘শ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছি। শুধু তাই নয় পরিবার পরিজন নিয়ে আমাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এ দিকে ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। বাড়িতে কিস্তি নিতে আসা এনজিও কর্মীরা ভিড় করছে। টাকা না থাকায় কিস্তি ও দিতে পারছিনা।

এ প্রসঙ্গে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের লেবার এজেন্ট মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী বলেন, করোনার প্রভাবে গত এক মাস ধরে নৌপথে চট্রগ্রাম থেকে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। এরই মধ্যে গত ১ সপ্তাহ ধরে সারবাহী কার্গো-জাহাজ আসা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এতে এ বন্দরে কর্মরত প্রায় ৭‘শ শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ছাড়া তাদের প্রতিমাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা করে লোকসান হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সার সরবরাহ বন্ধ থাকায় চলতি সেচ মৌসুমে উত্তরা লের ১৬ জেলায় সারের কৃত্রিম সংকটের আশংকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ অচলাবস্থা নিরসনে তিনি সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের উপ-পরিচালক সাজ্জাদ আলম ও বাঘবাড়ি নৌবন্দরের বাফার গুদামের ইনচার্জ সোলায়মান হোসেন জানান, করোনার প্রভাবে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে জাহাজ চলাচল সিমিত হলেও উত্তরা লে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুদ আছে। ফলে সার সংকটের কোন আশংকা নেই। উভয়ে কৃষকদের এ বিষয়ে শংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস