পাকুন্দিয়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা পাকুন্দিয়া মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার উপর হামলা করায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমজাদ হোসেন সবুজকে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। দুপুরে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান এ আদেশ দেয়।
জানা যায়, পাকুন্দিয়ায় একটি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ের তদন্ত করছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত। এ সময় খোঁজ খবর নিতে দুপুরে তার কার্যালয়ে যান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নোতা আমজাদ হোসেন সবুজ।
এ সময় তাদের মধ্যে প্রথমে বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলায় কর্মরত কর্মচারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসানের কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানায় ও বিচার চায়।
তারপর তাকে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ১৫ দিনের কারাদন্ড দেন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান।
ভ্রাম্যমান আদালতের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান বার্তা বাজারকে জানান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা গায়ে হাত দেওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৮৬ ধারায় ১৫ দিনের জেল দেওয়া হয়েছে।
এ দিকে কারাদন্ডাদেশ দেয়ার পর পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় জরায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদে পুলিশও লাঠিচার্জ করে। এ সময় মাসুদ নামের এক কর্মী আহত হাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো মফিজুর রহমান বার্তা বাজারকে মুঠোফোনে বলেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সবুজকে আটকের পর কিছু লোক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রুমের সামনে বিশৃঙ্খলা করলে পুলিশ তাদের সড়িয়ে দেয়। সেখানে কোনো লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনাঃ-
এ দিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমজাদ হোসেন সবুজকে কারাদন্ড দেয়ার পর স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা করতে দেখা গেছে। সুজন দেওয়ান নামের একজন লিখেছেন, “উনি হলো আমাদের প্রিয় সবুজ ভাই। উনার সবচেয়ে বড় অপরাধ উনি মান প্রান দিয়ে আওয়ামীলীগ করেন, তাই তিনি দল ক্ষমতায় থাকার সময় বার বার নির্যাতনের স্বিকার হন।পাকুন্দিয়ার উপজেলা আওয়ামীলীগের কাছে আমার প্রশ্ন আওয়ামীলীগে যদি ঐক্য থাকতো তাহলে কি সবুজ ভাইয়ের মত কেউ নির্যাতিত হতো?”

শামীম আহমেদ নামের একজন লিখেছেন, “করোনা ভাইরাস এর কারনে যখন গোটা বাংলাদেশ আতংকিত, সেই সময়ে দলের একজন নিবেদিত কর্মির এমন করুন পরিনতিতে আমরা হতাশাগ্রস্ত ও মর্মাহত।”

এম.এ পারভেজ নামের একজনর লিখেছেন “পাকুন্দিয়ার আওয়ামী লীগ, প্রশাসন দ্বারা পরিচালিত হয়। তৃনমুল আওয়ামী লীগ ধংসের পথে। সবুজ ভাইয়ের জন্য সমবেদনা”

মোঃ নাসির নামের একজন লিখেছেন, পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কর্মী, সাবেক ছাত্র নেতা সবুজ ভাই সে কি চোর? সে কি ডাকাত?তার হাতে হাতকরা কেনো তাও আবার চোরের মত দড়ি দিয়ে বাঁধা হলো!!! ছিঃ ছিঃ ছি।এ হলো পাকুন্দিয়া আওয়ামীলীগের অবস্তা!!!!

বার্তা বাজার/এস.আর