প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখলেন ডা. শারমিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফেসবুকের মাধ্যমে চিঠি লিখলেন ডা. শারমিন সাকা টুকটুকি। চিঠিটি হুবহু ‘বার্তা বাজার’ এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনাকে কতটা ভালোবাসি, তা বলে বুঝাতে পারবো না। আমার পরিবারের পর আর কাউকে ভালোবাসি বলতে গেলে সবার আগে আপনার নাম আসবে।
আমি জানি, আপনি অনেক দুশ্চিন্তা তে আছেন। কিন্তু আপনাকে এখনই কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
করোনা ভাইরাস খুবই মারাত্মক একটি রোগের জন্ম দিয়েছে। আপনার আশেপাশের মানুষ হয়তো বিষয় গুলো বুঝতে পারছেন না। তারা অনেক জ্ঞানী। কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে অনেক জ্ঞানী মানুষ ও জানেন না। আর কিছু মানুষ বুঝেও না বুঝার ভান করছেন। কিন্তু তারা বুঝতে পারছেন না, এটার ফলে মারাত্মক বিপদে পরতে যাচ্ছে আমাদের এই সোনার বাংলা।

আমাদের দেশ একদিকে ঘনবসতি, আরেকদিকে অকাট মূর্খের দেশ। এদেশে সচেতনতা বলে কিছু করানো যাবে না। এদেশের মানুষকে জোর করে সব করাতে হবে। তাই জোর করেই এদের ঘরে ঢুকান। তা নাহলে, আগামী ১ মাস পর বাংলাদেশে স্বজনহারা দের কান্না শোনা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
আমাদের দেশের মানুষের টেস্ট করতে চাচ্ছে না আইইডিসিআর। আমি সেদিন ভাবছিলাম, টেস্ট করানোর জন্য মিথ্যা বলতে হবে, যে বিদেশ ফেরত। এতটুকু আমার মাথায় আছে। আর জনগণ, মিথ্যা বলছে। তারা বিদেশ থেকে আসছে বা আত্মীয় আসছে, এই সত্য গোপন করছেন। এটাতে যেমন আসল রা সবাইকে ছড়াচ্ছে, তেমনি যারা আক্রান্ত না, তারাও চিকিৎসা পাচ্ছেন না, যা খুবই বেদনাদায়ক।

এই রোগের ভয়াবহতা থেকে বাঁচার জন্য ২ টা বিষয় নিশ্চিত করা এখন অতীব জরুরি। ১. সন্দেহে থাকা সবার টেস্ট। ২. অতি দ্রুত সব বন্ধ করে দেয়া।
জানি, ২ টা তেই সমস্যা হবে। কিন্তু সেই সমস্যা, এভাবে চলতে থাকলে যে সমস্যা হবে, তার চেয়ে অনেকককক কম।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
আমি জানি, আপনি ডাক্তার দের অনেকককক ভালোবাসেন। ডাক্তার রা যদিও এদেশে সম্মান পায় না, তারপরও আমি নিজে ডাক্তার হয়ে বলছি, একেকটা জীবন আমাদের কাছে অনেককক দামী। তারপরও আমরা রোগী দেখতে চাচ্ছি না, তার কারণ, এই রোগ অনেককক ভয়াবহ। কোন কিছু ছাড়া, এই রোগ দেখতে গেলে, পরবর্তী তে রোগী দেখার জন্য ডাক্তার পাওয়া যাবে না। সবাই বলছে, চায়না ডাক্তার রা অনেক কিছু করেছেন। মানছি। তারা যোদ্ধা। আমরাও যোদ্ধা হতে চাই। কিন্তু যে দেশে, প্রতিদিন ১০০০ এর উপরে করোনা রোগী হয়েছে, সে দেশেও ৪০০০০ মেডিকেল স্টাফ দের কেউ অসুস্থ হয় নাই। সেই সাবধানতা তারা নিয়েছেন। আমাদের দেশের মেডিকেল এর সবাই খালি হাতে কাজ করছেন। এভাবে খালি হাতে কাজ করা আহাম্মকি ছাড়া আর কিছুই না।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
আমি খুব তুচ্ছ একজন মানুষ। কিন্তু আপনার সাথে আমার একটা দিক দিয়ে খুব মিল। আর সেটা হলো, দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা। আর এই ভালোবাসার কারণেই আজকে আপনার কাছে আমার আবেদন। এখনই সবকিছু তে সাবধানতা অবলম্বন করেন। প্রয়োজনে কঠোর হোন। ইমার্জেন্সি তে যাদের থাকতে হবে, তাদের সব ধরনের ব্যবস্থা করে দেন, যেন তারা এই ভয়াবহ রোগ থেকে নিজেদের বাঁচায় রাখতে পারেন।

আইইডিসিআর এর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। কারণ, এখন আর শুধু বিদেশ ফেরত দের মধ্যেই এই রোগ সীমাবদ্ধ নাই। আর “এই রোগ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নাই ” – এই ধরনের মিথ্যা আশ্বাস প্রচার বন্ধ করেন। কারণ, এই দেশের মানুষ আতংকিত না হলে সচেতন হয় না। রোগী কত কম হলো, এটার মধ্যে কোন বাহবা নাই। দেশ কে সাবধান করা হচ্ছে কিনা ঠিক মত, সেটাই বাহবার বিষয়।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
এই ক্রান্তিলগ্নে, আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করি। মহান আল্লাহ তায়ালা র কাছে দোয়া করি। আর এভাবেই দেশ কে এই ভয়াবহ রোগের ভয়াবহতা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি।

ইতি, আপনাকে অসম্ভব ভালবাসে এমন অতি সাধারণ একজন।

লেখা: ডা. শারমিন সাকা টুকটুকি’র ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর