করোনাভাইরাস : বিলাসিতার মূল্য দিতে হচ্ছে ইতালিকে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালি। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৬ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ৫৯ হাজার ১৩৮ জনের। ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার অবস্থা বেশি করুন। লকডাউনে থাকা দেশটির সেনাবাহিনী করোনা প্রতিরোধে কাজ করছে। সাহায্য চাওয়া হয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীরও। ইতালিতে ভাইরাস আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যতই বাড়ছে ততই প্রশ্ন উঠছে, এটিই নিছকই দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত ঘটনা।

গত ২০ মার্চ The American Spectator-এ ”করোনাভাইরাস: দ্য প্রাইস অব লাক্সারি” শীর্ষক প্রবন্ধ লিখেছেন রবার্ট স্ট্যাসি ম্যাককেইন। সেখানে বলা হচ্ছে ইতালির অধিকাংশ নাগরিকের বয়স বেশি। এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা বলা হচ্ছে। ‘মেড ইন ইতালি’ ফ্যাশনের কারণেই চীন থেকে ছড়িয়ে ইতালিতে পড়েছে ভাইরাস। ইতালির উত্তরাঞ্চলে টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের কারখানায় চীনের অনেকে বিনিয়োগকারী জড়িত। তারাই এসব কারখানায় চীনা কর্মীদের নিয়ে এসেছিলেন। ২০১০ সালের হিসাবে ইতালির ফ্লোরেন্স ও প্রাতোতে ৬০ হাজার চীনা কর্মী কাজ করতো। চলতি মাসের শুরুতেই ইতালিকে লকডাউন করে ফেলা হয়।

ইতালি উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার অধিকাংশ ইতালি নাগরিক তাদের টেক্সাটাইল ও চামড়াজাত পণ্য চীনের কাছে বিক্রি করে। ইতালি ১ লাখ চীনা কর্মীকে কাজের অনুমতি দিয়েছিল যারা উহান ও ওয়েংজুর বাসিন্দা। করোনা মহামারী রূপ নেয়ার পরও উহানের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় ইতালির সরাসরি ফ্লাইট চালু ছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইতালির উত্তরাঞ্চলেই প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। ইতালিতে করোনাভাইরাসের আকার, অবস্থান ও সময়- সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে চীন করোনভাইরাসকে ইতালিতে আমদানি করা হয়েছে। ইতালিতে প্রথম যে দুই ব্যক্তির করোনাভাইরাস ধরা পড়ে তারা চীনা পর্যটক ছিল। গত জানুয়ারির শেষের দিকে তারা ইতালি এসেছিলেন। সেই ঘটনার তিন সপ্তাহ পর ফেব্রুয়ারিতে ইতালির লোম্বার্ডি প্রদেশে ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ”মেইড ইন ইতালি” ফ্যাশনের জন্য চীন থেকে শ্রমিক নিয়ে আসায় ইতালিতে বহু বিলাসী পণ্য সস্তা হয়েছে।

কিন্তু এখন তার পুরো দাম দিতে হয়েছে ইতালিকে। শুধু তাই নয়, এখন সেটি ‘কষ্টদায়কভাবে ব্যয়বহুল’ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। মার্চের শুরু থেকে ইতালিতে এখন এত ব্যাপকহারে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে যে চীনা কর্মীরা এখন সে একই ভাইরাস শরীরে নিয়ে দেশে ফিরছে।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর