করোনা ভাইরাস রোধে, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রবিবার দুপুরে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়ে সন্ধ্যায় শেষ হয়।
উচ্ছেদ কার্যক্রমের এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন অনেকেই।
ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি ফেসবুক পেজে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। সেখানে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আসাদুল ইসলাম বলেন, “খুবই ভালো উদ্যোগ,অনেক আগেই এমনটি করা উচিৎ ছিলো।”
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ” ভালো সিদ্ধান্ত৷ হাইজিনিক কয়েকটা বড় মাপের দোকান হলেই যথেষ্ট।বাট সেটা অবশ্যই টুকিটাকিতেই হতে হবে।কারণ ঢাবির মধুর ক্যান্টিন যেমন ঐতিহ্য, তেমনি রাবির টুকটাকিও ঐতিহ্য।”
এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন কেউ কেউ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামের ফেসবুক গ্রুপের একটি পোস্টের কমেন্ট বক্সে তানভীর আহমেদ অভি বলেন, ‘একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটির সৌন্দর্য্য বলতে এরকম টং এর দোকান গুলোর বুঝতাম, যেখানে সকল বিভাগ, সকল ধর্ম, সকল বর্ণ, সব রকমের মানুষ একসাথে বসে আড্ডা দিবে।একপাশে গিটার বাজবে, অন্য পাশে এসাইনমেন্ট চলবে।’
একই পোস্টের কমেন্ট বক্সে শাকিলা মিম বলেন, ‘ টুকিটাকি না থাকলে আমি আর ক্যাম্পাসেই যাবোনা।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে টুকিটাকি চত্বর, শহীদুল্লাহ কলা ভবন, মমতাজ উদ্দিন কলা ভবন সহ ক্যাম্পাসের সকল একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থিত অস্থায়ী দোকানপাট তুলে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই এসব দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। ক্যাস্পাস খোলা হলেও এসব দোকানপাট আর বসতে দেয়া হবে না।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস