ছোট্টকালে মনে হয় খুব ভাল মানুষ ছিলাম। নামাজ পড়তাম ৫ ওয়াক্ত। এমনকি ছেলেবেলায় আমার এলাকায় মুয়াজ্জিনের পর মসজিদে সবার আগে পৌঁছানো ছেলেটা প্রায় সময় আমিই ছিলাম! মুয়াজ্জিনের আঙুলটি ধরে মানুষকে নামাজ পড়তে আহ্বানও জানাতাম! ভাল ছিলাম কারণ কোনো হিংসা, পাপ,পঙ্কিলতা কিছুই ছুঁয়ে যায়নি তখন আমায়!
বয়সের সাথে সাথে সরল মন কখনোবা জটিল হয়েছে কিন্তু পঁচে যায়নি! এ জীবনে প্রাপ্তি কী, এই প্রশ্নটুকু আসলে আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর একটাই আসে- জ্ঞানত কারো ক্ষতির কারণ আমি হইনি কখনো আলহামদুলিল্লাহ! ছোটকালের সুন্দর,শুভ্র অভ্যাসগুলো ফিকে হয়ে টিকে আছে। আগে নামাজ ওয়াক্তের সাথে না পড়লে বুক ধুকপুক করতো এখন সেটা হয়না। না, নামাজ ছেড়ে দেইনি কখনোই কিন্তু কেমন যেন সংযোগ বিচ্ছিন্ন মনে হয়! এ তবে কেমন বড় হওয়া?
কখনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়লে প্রাণপ্রিয় মাকে লজ্জা নিয়ে বলতাম, মা একটু দোয়া করেন আপনার রহমতের হাত দুটো তুলে। আমি বদনসীব সেই প্রিয় হাতজোড়াও হারিয়ে ফেলেছি। এখন যখন সারা বিশ্বে প্রতিকূল অবস্থা তখন আমার জননীর দুটি পবিত্র হাতের প্রার্থনা খুব জরুরি ছিল। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বেড়ে উঠা শুভ্রতার প্রতীক আমার মা আমাদের ধর্মীয় অনুশাসন মানিয়েছেন কিন্তু ধর্মান্ধ করে গড়ে তোলেননি!
হৃদয় যখন দুর্বল হয়ে যায় মানুষ তখন চেতনে, অবচেতনে অবলম্বন খোঁজে! আমিও এর বাইরে নই! যে কোনো বিপদে মহান আল্লাহর কাছে চাইতে আমি পাপী বান্দার লজ্জা হয় না! আমি বারবার মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা চাইতে থাকি কারণ এটাই আমার সেই আশ্রয়স্থল, যেখানে চাইতে আমি কখনো বাধাপ্রাপ্ত হই না! মনের গহীন কোণে আশার আলো জ্বালিয়ে বসে থাকি, কিছু একটা হবে! চিন্তায় কতটা
বিজ্ঞানমনস্ক আমি সেটিকে বাদ দিয়ে আমার বিশ্বাসকেই আমার জয়ী করাতে ইচ্ছা হয়।
সেই বিশ্বাস থেকেই মহান আল্লাহর দরবারে এই প্রতিকূল অবস্থা থেকে মুক্তি চাই! সব ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জীবন ভিক্ষা চাই।
আমি দুর্বল, পাপী বান্দার প্রার্থনা আল্লাহ তুমি নেবে কিনা জানিনা, কিন্তু বাবার চোখে পানি দেখে এই গভীর রাতে চিৎকার করে কান্না জুড়ে দেয়া আমার ছোট্ট মেয়েটার কান্না তুমি বৃথা যেতে দিওনা মাওলা! পবিত্র এই রজনীতে আমার মত এতিম বান্দার দোয়া তুমি কবুল করে নিও আল্লাহ। বাস্তবতা বুঝেও এই অবস্থার উত্তরণের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত প্রতিটি প্রাণসহ সকলের জীবন ভিক্ষা চাই হে মাওলা।
আমাদের জ্ঞান দাও প্রভু, আমাদের ক্ষমা করো!
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
লেখক: অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন), ওয়ারী বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকা।
বার্তা বাজার/এম.সি