মহামারী আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবল বাংলাদেশেও পড়েছে। ঘনবসতি আর দূষণে জর্জড়িত বাংলাদেশের মানুষের জন্য করোনাভাইরাস ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসতি রাজধানী ঢাকায়। বেসরকারি হিসাবমতে এই বিশাল জনসংখ্যার মাঝে কমপক্ষে ৫ লাখ আছে ভাসমান মানুষ। যাদের থাকার মত ঘর নেই। ফূটপাথ কিংবা স্টেশনে তারা রাত কাটায়। করোনা ভাইরাস নিয়ে তারাই আছে সবচেয়ে ঝূঁকিতে।
সম্প্রতি স্যানিটাইজেশনের কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়ার পর একটু বেশি দামে হলেও যাদের সামর্থ্য আছে তারা প্রাণ বাঁচাতে তা কিনে নিচ্ছেন। কিন্তু ভাসমান, ছিন্নমূলদের তাও নেই। সরকারি,বেসরকারি, ব্যাক্তি উদ্যোগে তাদের হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা করলেও তা যথেষ্ট নয়।
এমন দুঃসময়ে অনেকটা দেবদূতের মত দেশের কিছু ছাত্র এগিয়ে এসেছে দায়িত্ব নিতে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এসব ছাত্র ইতোমধ্যেই স্যানিটাইজার তৈরীর সব পরিকল্পনা গুছিয়ে ফেলেছে। কিন্তু অর্থাভাবে তাদের এই পরিকল্পনা থেমে আছে।
এই দলটির মুখপাত্র বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল’স (বিইউপি)-এর পাইজার বিভাগের ছাত্র আব্দুর রহমান রনি জানায়, আপাতত আমরা ৭০-৮০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করতে চাই। এলকোহলসহ অন্যসব কেমিক্যালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচটা এত হচ্ছে। নয়তো অর্ধেক খরচেই এটা করা যেত।’
দলের আরেক সদস্য এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র আল ফাহাদ রাসেল জানায়, আমরা সবাই সুরক্ষিত থাকলেও যদি নিম্ন আয়ের একজন মানুষও নিজেকে সুরক্ষিত না রাখতেও পারে তাহলে আমাদের সবাইকেই বিপদে পড়তে হবে। সেই চিন্তা করেই আমার এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া ফর্মূলায় এটা তৈরী করব। তাই কার্যকরীতাও আশা করা যাচ্ছে বেশি হবে।
ইতোমধ্যে তারা একটি ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে বিত্তশালী মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কাঁচামাল কেনার মত টাকা কিংবা কেউ যদি কাঁচামাল কিনে দেয় তাহলে তারা দ্রুত কাজ শুরু করে দিবে।
তাদের বার্তা-
‘আসসালামু আলাইকুম।
আমরা জানি যে আমরা একটি খারাপ সময় পার করছি।আর এই খারাপ সময়টায় আমাদের সবাইকেই এক হয়ে কাজ করতে হবে।
আমরা সবাই লক্ষ্য করছি যে বাজারে সকল প্রকার “সেনিটাইজার” এর সংকট তৈরি হয়েছে।আর যা পাওয়া যাচ্ছে তা সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
আমরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারলেও সেই সকল মানুষজন তা পারছেন না! অথচ তাদেরও হাইজিন থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।
তাই আমরা কিছু ফার্মাসিস্ট বন্ধু উদ্যোগ নিয়েছি তাদের বিনামূল্যে ‘সেনিটাইজার’ বিতরনের জন্য নিজেরাই ল্যাবে ‘সেনিটাইজার’ উৎপাদন করবো। আর তার জন্য আপনাদের সাহায্যের একান্ত প্রয়োজন।
আপনাদের সাহায্য ছাড়া এর কাঁচামাল সংগ্রহ সম্ভব নয়।
তাই সমাজের বড় স্বার্থে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আমাদের পাশে থাকুন।
বিকাশঃ ০১৮৭১৩৩৩০৪৭, ০১৫৫২৪৭২৭০৭’
বার্তাবাজার/এসজে