ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসক, সরকারি হাসপাতাল চলছে ইন্টার্নি দিয়ে

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭১জন চিকিৎসক থাকলেও ওয়ার্ড গুলোতে চিকিৎসকদের দেখা মিলে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩ থেকে ১০জন চিকিৎসকের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হলেও ওয়ার্ড গুলো ঘুরে কোন চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শুধু ওয়ার্ড গুলোই নয়, ওয়ার্ডে রোগী দেখে হাসপাতালে ভেতরে চেম্বারে বসার কথা থাকলেও বেশির ভাগ চিকিৎসকের রুমে গিয়ে তাদের দেখা পাওয়া যায়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার কথা থাকলেও তাদের রুমে গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলানো। এতে করে একদিকে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে অন্য দিকে এতবড় একটি হাসপাতালের বেশির ভাগ চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে ইন্টার্নি চিকিৎসকের কাছে।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকসহ ৩ জন চিকিৎসক ছুটিতে। অথচ ছুটি অবস্থা বিরাজ করছে পুরো হাসপাতাল জুড়ে। এখন পর্যন্ত যারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তারা সবাই ইন্টার্নি চিকিৎসক। অপরদিকে রোগীদেরকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র দেবারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে দেখা মেলেনি কোন চিকিৎসকের। ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের চেম্বারে লতে দেখা যায় তালা। এ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে উল্টো লাঞ্ছিত হতে হয়েছে সাংবাদিকদের।

শনিবার সকাল ১১টার সময় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পরিচালকের কক্ষে সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডাক্তার মো. নজমুল ইসলামের সাথে কথা বলে তার অনুমতিক্রমে ওয়ার্ডে যায় সাংবাদিকরা। ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসক আছেন কিনা এমন কথা জিজ্ঞেস করলে কর্তব্যরত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, ‘স্যারেরা এসেছিলেন।

সকাল বেলা রাউন্ড দিয়ে চলে গেছেন। তবে কয়েকজন ইন্টার্নি চিকিৎসককে রোগীদের সেবা দিতে দেখা যায়। পরে চতুর্থ তলায় মেডিসিন বিভাগ ও দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ও মহিলা সার্জারি ওয়ার্ড, নাক-কান-গলা ওয়ার্ডে গিয়ে শুধুমাত্র ২জন চিকিৎসককে পাওয়া যায়। অন্যসব রুম গুলো তালাবন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

প্রতিটি বিভাগের সামনে চিকিৎসকদের নাম পদবীসহ টাঙানো তালিকা অনুযায়ী চিকিৎসক থাকার কথা সার্জারি বিভাগে ৩ ইউনিটে ১৬জন, অর্থো সার্জারি ওয়ার্ডে ১৭ জন, নাক-কান-গলা বিভাগে ২জন, চক্ষু বিভাগে ৪জন এবং মেডিসিন ওয়ার্ডে তিন ইউনিটে ১৭জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও চিকিৎসক আছেন ২জন। যদিও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অদ্য দিন পর্যন্ত হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন মোট ৭১জন।

হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় একজন সাংবাদিককে হাসপাতালের ছবি তুলতে নিষেধ করেন হাসপাতালে কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মকর্তা। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অন্যান্য সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

তারপরও ঐ পুলিশ কর্মকর্তা লাঞ্ছিত ঐ সাংবাদিকসহ অন্যান্য সাংবাদ কর্মীদের সাথে নিয়ে সহকারি পরিচালকের কক্ষে যান। সেখানে গিয়ে সংবাদকর্মীরা ঘটনার বিস্তারিত বলার পরে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার নজমুল ইসলাম জানান, তিনি সংবাদকর্মীদেরকে ইউনিটে যাবার অনুমতি প্রদান করেননি।

এ সময় অন্য একজন চিকিৎসক উপস্থিত সংবাদকর্মীদের প্রতি অশালীন ও অশোভন আচরণ করায় সাংবাদিকরা হাসপাতাল থেকে চলে আসেন। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলার সময় তাদের কোন কথা ক্যামেরাবন্দী করা যাবে না মর্মে ক্যামেরা চালু করতে নিষেধ করেন। সাংবাদিকরা চিকিৎসকদের বিভিন্ন প্রশ্ন করলে কয়েকজন চিকিৎসক রেগে গিয়ে রুম থেকে চলে যেতে বলেন।

শুধু তাই নয়, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের নিচতলা থেকে উপরতলা পর্যন্ত একজন রোগীকে টাকা ছাড়া কোন ধরণের সেবা প্রদান করা হয় না এমন অভিযোগও আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘হাসপাতালে এলে এখানে ট্রলিতে করে উপরে নিয়ে গেলে ১০০ টাকা নেয়। ড্রেসিং করাতে ১০০ টাকা না দিলে ড্রেসিং করায় না। রোগীর সাথে লোকজন এলে সরকারিভাবে যে ভাত দেয় তাদেরকে ১০ থেকে ২০ টাকা দিলে রোগীর স্বজনদেরও ভাত ও তরকারি দেয়। রোগীদের খাবার অন্য যে কেউ কিনতে পারে।

পায়ের অপারেশনের রোগী আকরাম হোসেন (২৬) অভিযোগ করেন, ‘আমি পায়ের অপারেশন করতে এসেছি। এখানে এসে দেখি টাকা ছাড়া কোন কাজই হয় না। টাকা দিলে ড্রেসিং হয় না দিলে হয় না। আবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে যে ট্রলি ব্যবহার করা হয় সেটাতেও টাকা দিতে হয়।’

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাক্তার নজমুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সুরাহা দিতে চাননি। বরং ওয়ার্ডে যাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি অনুমতি দেয়নি।’

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর