প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে কোচিং সেন্টার
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে দেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ মার্চ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অথচ সেই নির্দেশ অমান্য করে লক্ষ্মীপুরে এখনও চলছে কোচিং সেন্টার। প্রতিদিন কয়েকটি শিফটে স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা চালিয়ে যাচ্ছেন বাণিজ্যিক এই কার্যক্রম।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজ, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ও মদিন উল্যাহ হাউজিং এলাকা সহ জেলার কয়েকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। শিক্ষার্থীরাও নিয়মের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে কোচিং করছে দেদারছে।
যেখানে জমায়েত না হওয়ার পাশপাশি তিন ফুট দুরত্ব বজায় রেখে চলাচলের প্রাথমিক নিয়মাবলী দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানে ছোট্ট একটি কক্ষে গাদা-গাদি করে বসে কোচিং করছে শিক্ষার্থীরা। এতে করে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশংকা থেকে যায়।
বিপ্লব কোচিং সেন্টারের মালিক ও লক্ষ্মীপুর কমার্স কলেজের শিক্ষক পরিচয়দানকারী মো. বিপ্লব বলেন, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পরই সেন্টারটি বন্ধ করে দিয়েছি। আজ ভুলে শিক্ষার্থীরা চলে আসায় বাড়ির কাজ দেখিয়ে দিচ্ছেন, কোচিং করাচ্ছেন না।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষরা কোচিং সেন্টার খোলা রেখেছে। এজন্য প্রতিদিনই কোচিংয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তবে কয়েকজন একসঙ্গে পড়ালেখা করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারাও মনে করেন। আগামী কাল থেকে সন্তানকে কোচিংয়ে পাঠাবেন না বলে জানান তারা। করোনা থেকে রক্ষা পেতে
বাণিজ্যিক এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন অভিভাবকগণ।
কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করা জেলা শিক্ষা অফিসের দায়িত্ব, এজন্য এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল।
লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের শিক্ষা কার্যক্রম ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সে আদেশ কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কোন শিক্ষক ও সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
বার্তাবাজার/এমকে