ফরিদপুরে দুই যৌনপল্লীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব লাঘবে ফরিদপুর শহরের দুইটি যৌনপল্লিকে অনিদিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার ও পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বিপিএম।

শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরের শহরের রথখোল ও সিএন্ডবি ঘাট (নৌবন্দর) অবস্থিত যৌনপল্লিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের এ ঘোষণা জানিয়ে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম রেজা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম রেজা জানান, শহরের এ দুই যৌনপল্লীতে জায়গা কম, ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াতে করে থাকে। এতে সংক্রমণ ঝুঁকি থাকায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পরামর্শে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই দুই পল্লিতে প্রায় তিনশতাধিক যৌনকর্মী ছাড়াও বাড়িওয়ালী, মাসী ও অনেকের ছেলে-মেয়ে রয়েছে।

এ সময় তিনি আরো জানান, মানবিক কারণে এ সময়ে যৌনকর্মীদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে এক দুইদিনের মধ্যে প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বাড়ীওয়ালাদেরকে বন্ধকালীন সময়ে যৌনকর্মীদের কাছ থেকে ঘরভাড়া না নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পল্লি দুইটির প্রবেশ পথের মধ্যে পুলিশ পাহারা জোরদার করা হয়েছে ।

ফরিদপুর রথখোলা যৌনপল্লির জয় নারী সংর্ঘের সাধারন সম্পাদক শিউলি পারভীন জানান, আমাদের খাওয়া-দাওয়া এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ কাজ না পেলে তো পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুরে আজ পর্যন্ত করোনাভাইরাস রোধে বিদেশ ফেরত ৬২১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়াও গত ৩ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় ৪,২৫৬ জন বিভিন্ন প্রবাস থেকে দেশে এসেছে।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর