টানা ৮ দিন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ২১ মার্চ । শনিবার বেলা ১২টার দিকে হাসপাতাল ছাড়লেন কুড়িগ্রামের বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান । প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার সুলতানা পারভীন ও জেলার ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা নির্যাতিত এই সাংবাদিক গত ১৪ ই মার্চ আহত অবস্থা কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হোন ।সাংবাদিক আরিফুল আগের থেকে কিছুটা সুস্থ্য হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে শনিবার ছাড়পত্র প্রদান করে বাড়ি যাবার অনুমতি দেন । এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রেদওয়ান ফেরদৌস বার্তা বাজারকে বলেন,”সাংবাদিক রিগ্যান আগের থেকে কিছুটা সুস্থ্য হয়েছে,শরীরের ক্ষত চিহ্নগুলো সেরে গেছে,এবং বাড়িতে তার কয়েক সপ্তাহ এখন বিশ্রাম প্রয়োজন ।”
সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান বার্তা বাজারকে বলেন,”আপনাদের সকলের দোয়া’য় আমি এখন অনেকটা সুস্থ্য,আমার লড়াইয়ে যারা পাশে ছিলেন দেশবাসী সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ।”
উল্লেখ্য,গত শুক্রবার(১৩মার্চ) মধ্যরাতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসার সদস্যদের একটি দল শহরের চড়ুয়াপাড়ায় বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের বাড়িতে হানা দেয়। তার স্ত্রীর ভাষ্যমতে, এরপর আরিফুলকে মারধর করতে করতে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তার পোশাক খুলে দুই চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এসব ঘটনার নেতৃত্ব দেন ডিসি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আরডিসি) নাজিম উদ্দিন। এরপর মাদক উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে সাংবাদিক আরিফুলকে জামিন দেওয়া হয়। এরপর ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এডিসি রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামকে কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।