আমি আমার ফ্ল্যাটের চাবি কোয়ারেন্টাইনের জন্য দিলাম

উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ীতে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের মধ্যে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার জন্য একটি কম্পাউন্ডে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি দল।

কোয়ারেন্টাইনের জন্য ঠিক করা কুঞ্জলতা নামে ওই কম্পাউন্ডের ৪ টি ভবনে ৮৪ টি করে ফ্ল্যাট রয়েছে। মোট ৩৩৬ টি ফ্ল্যাট কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মায়ের পেনশন থেকে পাওয়া টাকা এবং নিজের কাছ থেকে কিছু কিছু করে জমানো টাকায় অনেক কষ্টের কেনা একমাত্র ফ্লাটটি কোয়ারেন্টাইনের জন্য দিয়ে দিয়েছেন একটি বেসরকারি আইটি কোম্পানির কর্মকর্তা আশিক চক্রবর্তী । তিনি মানুষের জন্য কিছু করতে চান আর তার জন্য তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন । তার এ উদ্যোগকে স্বাগতম জানিয়েছেন সবাই । শুক্রবার (২০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন।

এতে তিনি বলেন, আমার মায়ের অবসরের টাকায় এবং আমার যৌথ উদ্যোগে উত্তরা দিয়াবাড়ীতে রাজউকের একটা (এবং একমাত্র) ফ্লাট আছে। দুই সপ্তাহ আগেই এসি, ফ্রিজ সহ বেশ কিছু জিনিস কিনেছি। সব সাজানোই আছে। আমার ফ্ল্যাটের চাবি আমি নিজেই স্বেচ্ছায় দিয়ে দিয়েছি (কেউ এখনো চায়নি)। কোনো কিছুই আনি নাই। আমি জানি না সরকার এটা ব্যাবহার করবেন কিনা? কিন্তু আমাদের সামান্য ত্যাগ যদি এই সময় কারো কাজে আসে আমি তাতেই খুশী।এখন সময় আমাদের বলার, আমার আমার করার না।

তার এই পোস্টটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। কমেন্টবক্সে মন্তব্য করাদের মধ্যে অধিকাংশই তার এই কাজের জন্য প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তবে কেউ কেউ বলছেন, তিনি ফেসবুকে সস্তা লাইক পাওয়ার জন্যই এই পোস্টটি করেছেন।

এরপর রাতে তিনি আরো একটি পোস্ট দেন ফেসবুকে। যাতে লেখেন, আমার ফেইসবুক স্টেটাস নিয়ে অনেকেই আমাকে হিরো বানাচ্ছেন আবার অনেকেই আমাকে বলছেন আমি হিরো হবার জন্য ফেইসবুক লাইক বাড়ানোর জন্য মিথ্যা কথা বলছি। ভাইয়েরা আমি হিরোও না, আর হওয়ার যোগ্যতাও নাই। আমি কোনো মিথ্যা কোথাও বলি নাই আবার চিন্তাও করি নাই আমার কত লাইক আর শেয়ার আসবে। আমি বলি নাই সরকার আমার বিল্ডিংটা অলরেডি নিয়েছে। একটু ভালো করে একবার দেখেন আমি বলছি “আমার ফ্লাটটি সরকার ব্যবহার করবে কিনা আমি জানি না” আমি আমার ফ্ল্যাটের চাবি রাজউক নিযুক্ত কেয়ারটেকারকে দিয়ে বলেছি যখনি সরকার চাইবে তখন দিয়ে দিও। আপনার যারা বলছেন সরকার একটা মাত্র বিল্ডিং সিলেক্ট করেছে আমি মহান হওয়ার জন্য অন্য বিল্ডিংয়ের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও চাপা মারছি যে আমি চাবি দিয়েছি আমি তাদের একটা কথাই বলতে চাই একটু বাইরের দিকে দেখেন কত বিল্ডিং লাগে আইসোলেশন করতে? সবগুলো বিল্ডিং দিয়েও হয়তো আমরা সামলাতে পারবো কিনা জানি না। এই সময় এই সব কথা আপনাদের ক্যামনে মনে হয়? আরেকটা কথা বলি আমার মতই আরো কয়েকজন তাদের চাবি দিয়ে আসছে। আমি খুব সাধারণ ভাই এবং সারা জীবনেই তাই থাকতে চাই। ডাক্তার, নার্স, স্বেচ্ছাসেবী তারাই আসল হিরো। আমরা ঘরে বসে মহান মহান স্টেটাস দিতে পারি কিন্তু ওদের মতো কলিজা আমার অন্তত নাই। তাই হিরো অথবা জিরো না করে বরং যার যার জায়গা থেকে একটু সহায়তা করি।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর