এখন থেকে আগামী ৩ সপ্তাহ অর্থাৎ ২১ দিন বাংলাদেশের জন্য করোনা ভাইরাস ভয়াবহ একটা সময় নিয়ে আসছে। এই ২১ দিনেই সারাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাস ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গতকাল পর্যন্ত যারা দেশে ফিরেছে তাদের মাধ্যমেও যদি ভাইরাসটি ছড়ায় তাহলে তা প্রকাশ পাবে এই ২১ দিনের মাঝেই।
ভাইরাস বিজ্ঞানের ভাষায় এই সময়টাকে বলা হয় ‘পিক টাইম’। ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞরা সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে বলেছেন, যেসব দেশে ভাইরাসটি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সেই দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হলে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তবে এখনও যদি ছড়িয়ে পড়া দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে আনা হয় তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
বিজ্ঞানীদের মতে, উন্নত রাষ্ট্রগুলোও করোনা মহামারী ঠেকাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সময়ের কাজ সময়ে করতে পারেনি বলেই এমনটা হয়েছে। এসব দেশের প্রতিটিতেই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল আক্রান্ত দেশ থেকে আসা দু-একজন ব্যক্তির মাধ্যমে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাস যে সব দেশকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে দিয়েছে সেখানে প্রথম ২ থেকে ৩ সপ্তাহ হাতেগোনা কয়েকজনকে করোনাক্রান্ত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। একপর্যায়ে তাদের অসচেতনতার কারনে ১/২ সপ্তাহের মাঝেই সেটি ভয়াবহ রুপ ধারণ করে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক সময়। আমাদের হিসাব মতে, এই সময়ে দেশে নতুন করোনাভাইরাসের পিক হবে। যা হওয়ার এই সময়ে হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যেসব সতর্কতা এখন নেয়া হচ্ছে এগুলো আরও আগেই নেয়া দরকার ছিল। পিক হলে আরেকটি ডিজাস্টার ঘটবে।
বার্তাবাজার/এসজে