অপারেশন সার্চলাইট, পাকিস্তানীদের গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস

আজ অগ্নিঝরা মার্চের ২১ তারিখ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকায় থাকা পাকিস্তান আর্মির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সেনাসদরে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ রাতে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করার পরপরই শুরু করা হবে অপারেশন সার্চলাইট।

এ অপারেশনের মূল ‘টার্গেট’ হিসেবে পিলখানা ইপিআর ব্যারাকে হামলা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গনহত্যা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও মুক্তিকামী বিভিন্ন নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

এ খবর বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুর কাছে পৌঁছলেও তিনি তা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তার ধারণা ছিল, সমঝোতামূলক আলোচনার মাঝে পাকিস্তান বেঈমানি করে নিরীহ বাঙালিদের উপর ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারেনা। তারপরও তিনি বিষয়টির প্রতি ্সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

ফলে দ্রুত ফাঁস হয়ে যায় পাক সেনাদের গোপন ষড়যন্ত্র। আর এতে সারাদেশের মানুষ ফুঁসে ওঠে। বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা রাজধানী। । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বাসভবন থেকে ঘোষণা দেন আর কোনো আপস নয়। সাত কোটি মানুষের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের স্বাধিকারের মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফর্মুলাই মেনে নেব না। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে সরাসরি তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে পৌঁছে এক বিবৃতিতে লাহোর প্রস্তাব দিবস উপলক্ষে ২৩ মার্চ দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন।

বিকালে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে পাকিস্তান মুসলিম লীগ প্রধান মিয়া মোহাম্মদ দৌলতানা বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎ করে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিকে জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টাদের নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। প্রতিদিনই পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের ছয় থেকে ১৭টি বোয়িং-৭০৭ বিমান সৈন্য ও রসদ নিয়ে ঢাকায় আসছে। সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরেও ভিড়ছে কয়েকটি জাহাজ। বাড়ানো হচ্ছে পাকিস্তান স্থল ও নৌবাহিনীর শক্তি।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর