জাবির তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছ ছাত্রলীগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন ছাত্র সংসদ কর্তৃক তৈরিকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দশ হাজার পিচ হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিনামূল্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মধুর ক্যান্টিন এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। যার মধ্যে তিন হাজার পিচ “CHEMSOL” নামক হ্যান্ড স্যানিটাইজার জাবি শিক্ষার্থীদের তৈরি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অর্থায়নে জাবির রসায়ন সংসদের ভিপি দেলোয়ার হোসাইনের উদ্যোগে ১০০ মিলিগ্রামের তিন হাজার পিচ হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে একই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন পাঁপড়ি,মাহিয়া মতিন আনিকা,গৌতম কুমার দাস, শাকুর মাহমুদসহ ১০-১২ জন।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং রসায়ন ছাত্র সংসদের ভি.পি, মো:দেলোয়ার হোসেন বলেন,“দেশের এই সংকটময় মূহুর্তে করোনা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করি। যা ভাইরাস বিরুদ্ধে বাজারে চলমান স্যানিটাইজারের চেয়ে বেশি কার্যকরী। ”
“প্রথমে আমরা স্বল্প পরিসরে তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,রিকশাচালক,দোকানদার এবং হকারসহ বিভিন্ন দরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করেছি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অর্থায়নে ৩০০ লিটার “CHEMSOL” তৈরী করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি, আল-নাহিয়ান খান জয় ভাইয়ের কাছে হস্তাস্তর করি।”
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় গনমাধ্যমে বলেন, আমরা কয়েক ধাপে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহের চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে যে পরিমাণ সংগ্রহ করেছি তাতে কেন্দ্রীয়ভাবে দশ হাজার পিস তৈরির পাশাপাশি প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় ইউনিটগুলোতেও পাঠানো হয়েছে। সারাদেশেই নেতাকর্মীরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিনামূল্যে বিতরণ করবে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আশপাশের এলকায় গার্ড, ড্রাইভার ও রিকশাচালকদের মাঝে প্রায় ৮০ পিচ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিনামূল্যে বিতরণ করেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসে বিনামূল্যে বিতরণ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, করোনা প্রতিরোধে হাত ধোয়ার বিকল্প নেই। তাই হাতকে জীবানুমুক্ত রাখতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। আর যেগুলো পাওয়া যায় তার দাম আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
এজন্য দরিদ্র শ্রেণির মানুষের পক্ষে স্যানিটাইজার কেনা কঠিন। আর টাকা থাকলেও অনেক সময় কেনা সম্ভব হয় না, যেহেতু বাজারে সংকট তৈরি হয়ে গেছে। সেই প্রেক্ষাপট থেকে আমি চিন্তা করলাম হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা যায়। এরপর আমরা আমাদের ল্যাবে তৈরি করছি এবং বিতরণও করেছি।
বার্তাবাজার/এমকে