অনিয়মের অভিযোগে হাবিপ্রবির ছাত্র-শিক্ষক ও দুই কর্মচারীকে সাজা

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) গত ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ৪৮তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রমজান আলী কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার অভিযোগে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি থেকে আজীবনের জন্য অপসারণ করা হযেছে।

সেই সাথে অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের মার্কেটিং বিভাগের লেভেল-৪ সেমিস্টার-২ এর শিক্ষার্থী আলমগীর কবিরকে দুই সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম এবং আবাসিক হল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে মর্মে ৪৮তম রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্তের এক আদেশে জানানো হয়। এই আদেশ অভিযুক্তদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিঠি ইস্যু করে পাঠিছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়।

এছাড়া রিজেন্ট বোর্ডের ৪৮তম সভায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করার অপরাধে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৌরভ পাল চৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিন এন্ড আপিল রুলস অনুসারে পরবর্তী উচ্চতর পদে পদোন্নতি বা পর্যানোন্নয়ন তিন (৩) বছর স্থগিত করেছে। হুবহু একই প্রশ্নপত্রে দুই (২) বৎসর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগে পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম হতে দুই (২) বছর বিরত রাখা এবং স্বীয় বিভাগের অধ্যাপক মো. কুতুব উদ্দিন এর সাথে অশালীন ও অনাকাঙ্খিত আচরণের অভিযোগে কঠোরভাবে সতর্ক করে আদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই রুলসে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল আলম (সাবেক) এর টেবিলে আঘাত করে কাঁচ ভেঙ্গে ফেলার অপরাধে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুর রশীদকে ১ জুলাই ২০২০ ইং তারিখে প্রাপ্য বার্ষিক বর্ধিত বেতন স্থগিত রাখা হয় এবং শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালকের পদে দায়িত্বে থাকাকালীন ৪ লক্ষ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে সমন্বয় না দেওয়ায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে আনীত অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী উচ্চতর পদে পদোন্নতি বা পর্যান্নোয়ন স্থগিত করা হয়।

সেই সাথে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত তথ্য প্রমাণ ছাড়াই নিয়োগে অনিয়ম ও বাণিজ্য হয়েছে মর্মে অভিযোগ তুলে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রদানের অপরাধে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের জুনিয়র ক্লার্ক কবিতা রায়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিন এন্ড আপিল রুলস অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং একই রুলসে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র ল্যাব টেকনিশয়ান মো. আমিনুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রুজু করা মামলার চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা-২০২০ চলাকালীন দায়িত্ব পালন অবস্থায় অসদুপায় অবলম্বন করার দায়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

রিজেন্ট বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক বলেন, ‘রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত কেউ একাই নেয়নি। প্রকৃত অপরাধীরা সাজা পাবে এটাই স্বাভাবিক। কেউ তো চায়না কারো শাস্তি হোক। শাস্তি কথাটাও তো খারাপ। কিন্ত যখন মানুষ অপরাধ করে, তখন তার শাস্তি আরোপ করা হয়। কারণ, একজন মানুষের অপরাধের কারণে তাকে শাস্তি দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে সতর্ক করে দেয়া হয়। যাতে অন্যরা বুঝতে পারে যে অপরাধ করলে তাকে এই শাস্তি দেয়া হবে। অপরাধীর অপরাধের শাস্তি হোক এটা সবাই চায়।’

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর