করোনাভাইরাস : দিনাজপুরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় নেই সুরক্ষা ব্যবস্থা

দিনাজপুরে করোনা ভাইরাস সতর্কতায় কাজ করছে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তা বা সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই ক্ষোদ চিকিৎসক ও নার্সদেরই। এমনটাই অভিযোগ করেছেন দিনাজপুরে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স।

শুক্রবার দিনাজপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, করোনা আতঙ্কে অন্যান্য সাধারণ রোগীর ভিড় নেই। অনেকে আবার করোনা ভাইরাসের ভয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে চলে গেছেন। একই চিত্র দেখা যায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতেও। তবে হাসপাতাল গুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশির রোগীর আগম আছে বলে জানান কর্মরত চিকিৎকরা।

গত তিনদিনে দিনাজপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৮ মার্চ) সদর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন ৭৮জন। এর মধ্যে রোগী ভর্তি হয়েছে ৪২ জন। পরেরদিন বৃহস্পতিবার জরুরী বিভাগে সেবা নেন ৫৯জন। এর মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৩৮জন রোগী।

শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জরুরী বিভাগে সেবা নিয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯জন রোগী। যেখানে এই সময় গুলোতে হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকত অনেক বেশি সেখানে বর্তমানে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তি আছেন ১৩৫জন।

তবে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে গত তিনদিনে ৪১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এরকম রোগী ভর্তির সংখ্যা ১১জন থাকলেও অনেকেই হাসপাতাল ছেড়ে ভয়ে বাড়ি পালিয়ে বর্তমানে ৩জন রোগী আছেন। গত কযেকদিনে জরুরী বিভাগ ছাড়াও হাসপাতালের আউটডোরে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন ৪০০ এর অধিক ব্যক্তি।

বর্তমানে করোনা ভাইস আতঙ্কে আছেন চিকিৎসক ও নার্সরাও। সদর হাসপাতালের নিজস্ব অর্থায়নে ৫০০ মাস্ক, ৩০০ ক্যাপ ও ৫০ টি গাউন বানাতে দিয়েছেন হাসপাতাল কর্র্র্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স বলেন, ‘আমরা সবার থেকে বেশি হুমকির মধ্যে আছি। হাসপাতাল থেকে একটি কাপড়ের নরমাল মাস্ক দিয়েছে। এখনো গাউন ও ক্যাপ পাইনি। তবে যে মাস্ক দেওয়া হয়েছে সেগুলো আসলে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। এভাবেই কাজ করে যেতে হচ্ছে আবার বাড়ি গিয়ে বাবা-মা, সন্তানের সাথে থাকতে হচ্ছে।’

জেলার এক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সরকার করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলছেন। কিন্তু আমরা যে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী দেখছি এটাও তো এক প্রকার জনসমাগম। আর সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছি আমরা। কারণ আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সেই সাথে আমাদের কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই।’

চিকিৎসকদের সুরক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. আহাদ আলী বলেন, ‘চিকিৎসকদের সুরক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের হাতে এখনো সেরকম কিছু আসেনি। তবে আগামী সোম-মঙ্গলবারের দিকে মাস্ক, গাউন ও ক্যাপ জাতীয় জিনিস আসার সম্ভবনা আছে। সেগুলো পাওয়া পর ব্যবহারের জন্য আবার প্রশিক্ষণ দিতে হবে।’

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর