পঞ্চগড়ে বিদেশ ফেরত ৯০০ জনের মধ্যে হোম কোয়ান্টোইনে মাত্র ১১ জন

সারা বিশ্বে বর্তমানে করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশেও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পর থেকেই করোনা ইস্যুতে নড়েচড়ে বসেছে গোটা দেশ। এদিকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।

পঞ্চগড় জেলায় ০১ মার্চ-১৮ মার্চ ১৮ দিনে বিদেশ ফেরত ৯০০ জন হলেও হোম কোয়ারেন্টাইনে মাত্র ১১ জন।বাকীদের অনেকেরই তথ্য এখনো অজানা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের।

জেলার তেঁতুলিয়া,সদর,বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বিদেশ থেকে আসা ১১ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সম্প্রতি বিদেশ ফেরতদের মধ্যে জেলায় সিঙ্গাপুর থেকে ৪,সৌদি আরব থেকে ১,মালয়েশিয়া থেকে ২, ওমান থেকে ১,দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১,ভারত থেকে ১,ও দুবাই থেকে ১ জন দেশে ফিরলে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।।

যদিও তাদের স্বাস্থ্য পরিক্ষায় করোনা ভাইরাসের লক্ষণ মেলেনি। কিন্তু এলাকায় আসার পর তাদের কেউই মানছেনা সরকারী নির্দেশনা বা নিয়ম-নীতি।পরিবার ও এলাকাবাসীদের সাথে নির্দিধায় চলাফেরা করছেন।হাট-বাজারে ঘুরছেন ,এমনকি থাকছেন না হোম কোয়ারেন্টাইনে।

ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিদেশ থেকে আসা ঐ ব্যক্তিদের স্বজনেরা ও এলাকার বাসিন্দারা।

জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার মোঃ ফরিদ আলী জানায়, আমাদের এলাকার হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা অবাধে সবার সাথে চলাফেরা করায় তাদের স্বজনেরা ও এলাকাবাসী খুব আতঙ্কে আছে।জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে অনুরোধ তারা যেন এ বিষয়ে একটু নজর রাখে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিদেশ থেকে আসা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিরা হলেন,সিঙ্গাপুর থেকে আসা তেঁতুলিয়া উপজেলাে মাথাফাটা এলাকার গোলজার আহমেদ, ওমান থেকে আসা সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের আজাদপুর এলাকার মো রুবেল (৩০) ফেরেন গত ৮ মার্চ, সিঙ্গাপুর থেকে আসা সদর উপজেলার ঠুটাপাখুরী এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে করিমুল ইসলাম তিনি দেশে আসেন গত ৪ মার্চ,মালয়েশিয়া থেকে আসা বোদা উপজেলার ঝলই শালশিড়ি ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩২) ফেরেন গত ১৪ মার্চ ও মালয়েশিয়া থেকে আসা বোদা বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়নের সইমন পাড়া এলাকার মোকছেদুল ইসলাম (২৭),দেবীগঞ্জ উপজেলার সৌদি আরব থেকে আসা হাজরা ডাঙ্গা এলাকার ইঞ্জিনিয়ার আলী আসগরের ছেলে আতাউর রহমান ফেরেন ১১ মার্চ ,সিঙ্গাপুর থেকে আসা শালডাঙ্গা ইউনিয়নের সরদার পাড়া এলাকার সামসুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম ফেরেন ১৪ মার্চ,দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা দেবীগঞ্জ পৌরসভার মুন্সিপাড়া এলাকার বাদল (৩০) ফেরেন গত ৪ মার্চ ও দুবাই থেকে আসা পামুলি ইউনিয়নের কাটনহারা এলাকার সুবাদ আলীর ছেলে হাফিজুল ইসলাম ও উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের খরারপাড় এলাকার সাদ্দাম হোসেন (৩২) ফেরেন সিঙ্গাপুর থেকে।

তবে ফেরত অপর এক মহিলা হলেন বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের কলোনি পাড়ার নুর ইসলাম বাদশার স্ত্রী সূর্য বানু।তিনি বুকের শ্বাসকষ্ট নিয়ে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে তার শরীরে কোন করোনা ভাইরাসের লক্ষ্মণ পাওয়া যায়নি এবং সুস্থ বলে জানিয়েছে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী ডাঃ মোঃ এস আই এম রাজিউল করিম রাজু ।

জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ফজলুর রহমান জানান জেলায় বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের কারো শরীরে করোনার লক্ষণ পাওয়া যায়নি।আমরা তাদের সবসময় তাদের খোজ খবর নিচ্ছি। তবে আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে।যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর