চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালের সিঁড়িতেই মারা গেল জ্বরের রোগী

৫ দিন জ্বরে ভুগে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়বাংলা গ্রামের বাসিন্দা বাবুল (৪০) স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছিল। সেখানেও অবস্থা ভালর দিকে যায়নি। তাই বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় তাকে। হাসপাতালে ঢোকার মাত্র ঘন্টাখানেকের মাঝেই প্রাণ হারান তিনি।

তবে বাবুলের পরিবারের দাবী, করোনা সন্দেহে কোনো ডাক্তারই তাকে চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেননি বলেই মৃত্যু হয়েছে বাবুলের।

নিহত বাবুলের বড় বোন জানান, চারদিকে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে বলে আমরাও ভয় পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার ভাইকে নিয়ে আসি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়মুক্তির জন্য একে অপরকে দেখিয়ে দিচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা জরুরি বিভাগে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আশরাফুর রহমান রোগের লক্ষণ জানতে চান। তখন আমরা তাকে জ্বরের বিষয়টি বলি। জ্বর শুনেই ডাক্তার আমাদের দূরে গিয়ে বসতে বলেন। তারপর তিনি বলেন, ‘আপনারা হাসপাতালের আরএমওর কাছে যান’

আমরাএভাবে একেক সময় একেক জনের দ্বাড়ে গিয়েছি। কিন্তু কারও সাড়া মিলেনি।

বাবুলের বোন বলতে থাকেন, এর মাঝে আমার ভাই আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সে চলাচলের শক্তিও হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে বহির্বিভাগের সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়ে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, আমার ভাই করোনায় আক্রান্ত হলে আমাদেরও হতো। আমরা ৫ দিন ধরে একসাথে আছি। ডাক্তাররা ভয় পেয়ে আমার ভাইয়ের কাছে আসেনি। তাই আমার ভাই মারা গেল। ভাইয়ের দুতো শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের কি হবে এখন?

এ বিষয়ে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মো. আশরাফুর রহমান জানান, আমি মেডিসিনের ডাক্তার নই। ওই রোগী ইমার্জেন্সিতে আসলে আমি রোগের বিবরণ শুনে আরএমওর কাছে যেতে বলি। এরপরের খবর আমি জানি না।

খুলনা মেডিকেল কলেজের পরিচালক টিএম মনজুর মোরশেদ বলেন, আমি সারা দিন বাইরে আছি, ঘটানাটি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর