করোনা আতঙ্ক : কক্সবাজার পর্যটক শূন্য করতে সড়কে তল্লাশী

করোনার ভাইরাসের ছোঁবলে গোটা দেশ আতংকিত। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ব্যপক সতর্কতার অংশ হিসেবে কক্সবাজারে পর্যটক আগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেন্টমার্টিন নৌ রুটে জাহাজ চলাচল। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ঘোষনা বলবৎ থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন।

বৃহস্পতিবার সকালে হিমছড়ি, ইনানী, কক্সবাজার সৈকতে কোনরকম পর্যটক চোখে পড়েনি। গোটা সৈকত এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শুনশান নিরবতা। আবাসিক হোটেলগুলোতে চোখে পড়ার মতো কোনো পর্যটকে ভিড় নেই। জেলা প্রশাসনের নির্দেশের পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন ঠেকাতে বিভিন্ন মোড়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। হোম কোয়ারেন্টাইন নির্দেশ অমান্য করার দায়ে টেকনাফ ও রামুতে বিদেশফেরত চার প্রবাসীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, যেসব পর্যটক ইতিমধ্যে হোটেলে অবস্থান করছেন তাদেরকেও ফেরত যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কোনো পর্যটক, পিকনিক পার্টি, কনফারেন্স বা অন্য কোন জমায়েত ও সমাবেশের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার শহরে কেউ যাতে আসতে না পারে সেজন্য কক্সবাজার-চট্টগাম মহাসড়কের চকরিয়ার হারবাং পয়েন্টে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশো চৌকি স্থাপন করা হয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম জানান, প্রতিনিয়ত কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসে। এর ফলে কক্সবাজার করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই ঝুঁকি এড়াতে কক্সবাজারে পর্যটক সমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কোন পিকনিক, সমাবেশ ও গণমমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো: মাহবুব আলম তালুকদার জানান, ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ৪৭টি করোনাভাইরাস আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রয়েছে। জরুরী প্র‍য়োজনে আরো ১৫০ শয্যার বেড প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০৭টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে গত এক সপ্তাহ ধরে এ সেবা জোরদার করা হয়েছে। প্র‍য়োজনে ইউএনএইচসিআর এর নির্মিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যে খালি ভবনগুলো রয়েছে, জরুরি অবস্থায় প্রয়োজনে সেগুলোও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেগুলোতে থার্মাল স্ক্যানারসহ কোনো পরীক্ষা সামগ্রীর অপ্রতুলতা নেই। পাশাপাশি আধুনিক সব পরীক্ষা সামগ্রী রয়েছে।

আরআরআরসি আরো জানান, বিদেশ থেকে আগত যে কোন বিদেশী কর্মকর্তাকে রোহিঙ্গা শিবিরে প্রবেশের আগে কমপক্ষে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কোয়ারেইন্টানে থেকে আশংকামুক্ত হলেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে শিবিরে প্রবেশের অনুমতি পারবেন। তবে শিবিরে আগে থেকেই কর্মরত বিদেশীরা এ নির্দেশনার আওতায় বাহিরে থাকবে।

অপরদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আতংকিত না হয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগীয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রেরিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি বার্মিজ ভাষায় অনুবাদ করে শিবিরে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মাঝে বিতরন করা হচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরের অভ্যান্তরে চলমান (লার্নিং সেন্টার) মাদ্রাসা, মক্তব গত ১৭ মার্চ মঙ্গলবার থেকে ৩১ মার্চ মঙ্গলবার পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার আবুল মনসুর জানান, সেন্টমার্টিন থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সকল পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার থেকে পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌরুটে সকল প্রকার পর্যটকবাহী জাহাজ ও ট্রলার চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর