ঈশ্বরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ভাংচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে পৌর এলাকায় ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌর এলাকার কাকনহাটি গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিন ফকিরের ছেলেদের সাথে প্রতিবেশী নূর মোহাম্মদের মধ্যে জমি নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলছে। নূর মেহাম্মদ তার বেশ কিছু জমি আজিম উদ্দিন ফকিরের কাছে বিক্রি করেন।

ক্রয়কৃত ২৫ শতক জমির দলিলে দাগ নম্বর ভুল হওয়ায় দাগ সংশোধনের জন্য ২০১৫ সালে ঈশ^রগঞ্জ আদালতে মামলা করেন মৃত আজিম উদ্দিন ফকিরের ছেলে সাইদুল ইসলাম ফকির। গত বিশ দিন আগে সাইদুল ইসলাম ফকিরও মৃত্যু বরণ করছেন।

দাগ সংশোধন করার মামলার করার পর সিএস রেকর্ডে নাম থাকায় জমি দাবি করেন নূর মোহাম্মদ। বিষয়টি নিয়ে গত তিন বছর আগে পৌর সভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি সালিশ হয়। সেই সালিশে নূর মোহাম্মদকে ৪ শতাংশ জমি ও কিছু টাকা দেওয়া হয়।

তার প্রেক্ষিতে দাগ সংশোধন করে জমি লিখে দেওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে নূর মোহাম্মদকে ৪ শতাংশ জমি বুঝিয়েও দেন আজিম উদ্দিন ফকিরের ছেলেরা। কিন্তু গত তিন মাস পূর্বে নূর মোহাম্মদ বিআরএস রেকর্ড সংশোধন মামলা করেন। বিআরএস রেকর্ড আজিম উদ্দিন ফকিরের নামে হওয়ায় ওই মামলা করেন।

মামলার বিষয় জানতে পেরে সালিশের মাধ্যমে দেওয়া বাড়ির আঙিনায় চার শতাংশ জমির পুকুর পাড়ের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠে আজিম উদ্দিন ফকিরের ছেলেদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়।

এর প্রেক্ষিতে পুলিশ উভয় পক্ষকে ডেকে শান্তিপ্রিয় ভাবে অবস্থান ও আদালতে মামলা চলমান থাকায় আদালতের সিদ্ধান্তে থাকার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু পুকুর পাড়ে বেড়া তুলে দেওয়ায় বুধবার দুই পরিবারের মধ্যে ফের সমস্যা সৃষ্টি হয়। নতুন দেওয়া বেড়া ও বাড়ির সীমানা বেড়া ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে নূর মোহাম্মদের পরিবারের লোকজনের ওপর।

নূর মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, তারা অন্য দাগে জমি বিক্রি করলেও তাদের বাড়িতে জোর করে জমি দখল নিতে চাইছে প্রতিপক্ষ। বেড়া দিয়ে তাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের গাছ কেটে নিয়েছে। তিনি বলেন, জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে তারা মামলা করেছেন।

মৃত আজিম উদ্দিন ফকিরের ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের নামে জমির রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু দলিলে দাগ ভুল হওয়ায় আদালতের দারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সালিশের মধ্যে চার শতক জমি ও কিছু টাকা প্রতিপক্ষকে দেবার সিন্ধান্ত হয়। কিন্তু তারা না মেনে তাদের ওপর উপর্যুপুরি আক্রমণ করছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এক পক্ষ অভিযোগ দিলে উভয় পক্ষকে ডেকে সহাবস্থানে থেকে আদালতে চলমান মামলার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বলা হয়। কিন্তু ফের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন।##

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর