কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর উপজেলায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় নজরুল ইসলাম নামের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র কে আসামী বানানাের খবর পাওয়া গেছে। সাজানাে মারপিট ছিনতাই ওই মামলায় ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের বাড়ি পৃথক তিন এলাকার।
থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয় ঘটনার ৭দিন পর গত শনিবার (১৪ মার্চ) যার নম্বর-৫। অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা মামলা এবং শিশুকে অভিযুক্ত করার ঘটনায় এলাকার মানুষর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজীবপুর থানায় দায়ের করা ওই মারপিট ছিনতাই মামলার বাদি আব্দুল বারেক’লিখিত অভিযােগে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে থানা থেকে মাত্র ১শ’ গজ দূর সােহরাব হােসেন নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীকে হামলা, মারপিট করে ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা ছিনতাই করে নেয়া হয়।
এ কাজে ৯জনকে অভিযুক্ত করা হয় এর মধ্যে ৮নং আসামি নজরুল ইসলাম নামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের নাম রয়েছে। ঘটনার ৭দিন পর পুলিশ অর্থের বিনিময়ে মামলাটি রজু করেছে বলে এলাকায় ব্যাপক সমালােচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই মামলায় ৯নং আসামি সােনা মিয়াকে পুলিশ মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে আদালত প্রেরণ করেছে।
উপজেলার জাউনিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা ওই মামলার চার নম্বর আসামি তারা মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে নজরুল ইসলাম তৃতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। আমরা ঘটনার কিছুই জানি না অথচ আমাকসহ আমার দুই ছেলেকে আসামি করেছে। আমি যতটুটু জানি আমার ভাইয়ের ছেলে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মামলার বাদির পরিবারর সঙ্গে বিরােধ রয়েছে।
এই বিরােধের জের ধরে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দায়ের করে। পুলিশ টাকা পেয়ে খোঁজখবর না নিয়ে তা গ্রহণ করে।’ জাউনিয়ারচর সাকসেস প্রি-ক্যাডেট একাডেমির প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে নজরুল ইসলাম নামের শিশুটা। সে লেখাপড়ায় খুবই ভালাে। তাকে মিথ্যা মামলায় আসামি করার খবর শুনে আমি হতবাগ হয়েছি।’ একই মামলার আসামি আব্দুর রশীদ বলেন, ‘যে দিনের ঘটনা সেদিন আমি ময়মনসিংহের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলাম অথচ আমাকেও আসামি করেছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজীবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গােলাম মাের্শেদ তালুকদার বলেন, ‘বয়স বেশি উল্লেখ করার কারন আমরা জানতাম না তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সে। আর ঘটনা বা অভিযােগের সত্যতা পাওয়ার কারনেই মামলা নেয়া হয়েছে। কোনাে অর্থ গ্রহণ করা হয়নি। তবে আদালতে অভিযােগপত্র দায়ের করার আগে আমরা ওই শিশুর নাম বাদ দিয়ে দিবো
বার্তাবাজার/এমকে