অসুস্থ হলেই প্রথমে আমরা ডাক্তারের কাছে যাই। কিন্তু ডাক্তার তো আমাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেনা। আপনি যেকোন ছোঁয়াছে রোগে সন্দেহজনক হলে পরিবার/সমাজ আপনার কাছ থেকে দুরুত্ব বজায় চললেও ডাক্তাররা আপনাকে চিকিৎসা না দিয়ে পালাবেনা। কিন্তু সেই চিকিৎসা প্রদানকারী ডাক্তারের নিরাপত্তার বিষয়টা ক’জনে ভাবছি ?
যেকোন কমিউনিকেবল ডিজিজ বা ছোঁয়াছে রোগ বিশেষ করে মহামারী চলাকালীন চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য পার্সোনাল প্রোটেক্টিটিভ ইকুইপমেন্ট (PPE) মেইন্টেন করা জরুরী। করোনার প্রাদুর্ভাবে এই মূহুর্তে দেশে চিকিৎসা প্রদানকারী প্রত্যেক চিকিৎসকদের পার্সোনাল প্রোটেক্টিটিভ ইকুইপমেন্ট (PPE) সরবারহ করা সবচেয়ে বেশী জরুরী। না হয় মহামারি মোকাবেলা কোনভাবেই সম্ভব নয়। চিকিৎসকরাই সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে থাকে, কারন তারাই রোগীর বা রোগের এজেন্টের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে।
উন্নত দেশে চিকিৎসকদের যথেষ্ট নিরাপত্তা থাকা সত্তেও করোনা থেকে ছাড় পায়নি অনেক চিকিৎসক। আমাদের থেকে স্বাস্থ্য খাতে অনেকগুনে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর চিকিৎসকেরও করোনার আক্রমনে জীবন দিতে শুনেছি। আর আমাদের দেশে তো চিকিৎসকদের পার্সোনাল প্রোটেক্টিটিভ ইকুইপমেন্ট (PPE) মেইন্টেন হয়না বললেই চলে। যার ফলে চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে।
সর্বশেষ তথ্যমতে, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ১১ জন ডাক্তার কোয়ারান্টিনে আছে। যা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত। আর্থিক, সামাজিক কিংবা ভৌগলিক, সব দিক থেকেই বাংলাদেশে করোনার আক্রমনের ঝুঁকি অনেক বেশী। তাই বড় কিছু ঘটার আগে এখনই সোচ্চার হতে হবে।
ডাক্তাররা বাঁচলেই বাচবে হাসপাতাল, বাঁচবে রোগীরা। তাই ডাক্তারদের চিকিৎসার প্রদানের জন্য উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করতে হবে। উপজেলা লেভেল থেকেই চিকিৎসকদের পিপিই নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক : নিজাম উদ্দিন (ডিপ্লোমা চিকিৎসক)
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস