কিশোরগঞ্জে ইতালি ফেরত এক প্রবাসী করোনা আক্রান্ত এমন গুজব ছড়িয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শেখ ইকবাল হোসেন নামের ওই প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়ায় তার এ অভিযোগ সম্বলিত বক্তব্য আপলোড করেন।
সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, মিঠামইন থানার দুই এসআই তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সেই টাকা না দিলে হাতে হ্যাণ্ডকাপ লাগিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে হুমকি দেন।
প্রবাসীর এই অভিযোগ সম্বলিত বক্তব্য তোলপাড় সৃষ্টি করেছে সমাজের সচেতন মহলে। বিষয়টি পুলিশের ওপর মহলেরও নজর কেড়েছে।
ভুক্তভোগী ওই ইতালি প্রবাসী ও তার পরিবার এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়েছেন।
পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরদিকে এ ঘটনাকে দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বললেন স্থানীয় এমপি।
জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে মিঠামইন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ও কিরণ উপজেলার ঘাগড়া বাজারে আসেন। বাজার সংলগ্ন গ্রামের ইকবাল হোসেন বিদেশ থেকে এসেছেন জেনে তারা ইকবালের বাড়িতে যান। এসময় ইকবাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে দাবি করে তার নিকট এক লাখ টাকা দাবি করেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এমনকি টাকা না দিলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন তারা।
এ সময় শোরগোল শুনে এলাকার লোকজন এসে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে এ দুই পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ইকবাল বলেন, সব জায়গা থেকে ডাক্তারের রিপোর্ট নিয়েই ওই প্রবাসী বাড়িতে এসেছেন ৮ বছর পর। এরপরও তিনি নিজ গ্রামের বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনেই সময় কাটাচ্ছেন। এখন পুলিশ এ করোনা গুজবকে পুঁজি করে তার নিকট ঘুষ দাবি করছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বুধবার বিকালে ঘাগড়া গ্রামের ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনকালে ওই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আজিজুল হককে মিঠামইন থানার ওসি জাকির রাব্বানীকে নিয়ে ঘটনার বিষয় তদন্ত করতে দেখা গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আজিজুল হক জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়ে তিনি তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এসময় অভিযোগকারী ইতালি ফেরত শেখ ইকবাল হোসেন এবং তার ছোট ভাই শেখ ইরফান বলেন, তদন্তকারী দল আমাদের বক্তব্যকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। তারা (পুলিশের তদন্ত দল) তাদের আস্থাভাজন লোকজনের কাছ থেকে ইচ্ছামতো লিখিত নিচ্ছেন। ।।সূত্র : যুগান্তর।।
করোনাভাইরাস আক্রান্তের গুজব ছড়িয়ে প্রবাসীর কাছে পুলিশের ২ এসআইয়ের চাঁদা দাবি !
করোনাভাইরাস আক্রান্তের গুজব ছড়িয়ে প্রবাসীর কাছে পুলিশের ২ এসআইয়ের চাঁদা দাবি !
Gepostet von Barta Bazar am Mittwoch, 18. März 2020
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস