সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যের ডাক দিয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নির্বাচিত অংশের নেতৃবৃন্দ। বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঐক্যের ডাক দেন তারা।
এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইবি শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু হেনা মোস্তফা জামাল।
তিনি বলেন, কোন উচ্চাকাংখা নিয়ে আমরা নির্বাচন করিনি। দীর্ঘ দিন ধরে কার্যক্রম না থাকার কারণে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ঐতিহ্য প্রায় হারিয়ে যাচ্ছিল, আমরা চেয়েছি সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার গনতান্ত্রিক ধারাকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের অগ্রসৈনিক হিসেবে কাজ করার যে সুযােগ আপনারা দিয়েছেন তার জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২৩২ জন সদস্যের প্রতিই আমাদের রয়েছে অসীম কৃতজ্ঞতা। গত ৭ মার্চ ২০২০ তারিখে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের প্রাক্কালে আমারা ১০০ সদস্য বিশিষ্ট পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘােষণা করেছি এবং আমাদের কমিটি ঘােষণা হবার পরপরই আমরা যেকোন দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘােষনা করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের আন্তর্জাতিকীকরণের পথে আমরা যেমন তাদের সহযাত্রী ঠিক তেমনি যেকোন অনিয়মের অভিযােগ আসলে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা অবস্থান নিতে কোন দ্বিধা করব না।
বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কার্যক্রম দীর্ঘদিন না থাকার ব্যাপারেও সুনির্দষ্ট ব্যাখ্যা দেবার প্রয়ােজন বলে আমরা মনে করি। ২০১০ সালে সর্বশেষ নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন কোন নির্বাচন না হওয়ায় ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহােদয় আই, সি, টি বিভাগের অধ্যাপক ড. মােঃ মাহবুবুর রহমান কে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করে দেন এবং ৩ মাসের মধ্যে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে
পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার অনুমতি প্রদান করেন কিন্তু অধ্যাপক ড. মােঃ মাহবুবুর রহমান এর নেতৃত্বাধীন কমিটি কোন নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হন। এজন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর কার্যক্রম এক রকম বন্ধ ছিল।
এরপর গত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল সক্রিয় হয় প্রগতিশীল শক্তিকে পরাজিত করার জন্য। কোন কূল কিনারা করতে না পেরে তারা আলাদা একটি প্যানেল দেন। কিন্তু তাতেও যখন প্রগতিশীল শক্তিকে পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল, তখন তারা প্রগতিশীল প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য নিজ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীকে ভােট না দিয়ে জামাত এর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীকে ভােট দেন। আমাদের নির্বাচনী এজেন্টের মাধ্যমে জানতে পারি তাদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ভােট দিলেও শুধু সাধারণ সম্পাদক পদের ভােটটি তারা প্রদান করেছেন জামাতের প্রার্থীকে। এমনকি তাদের প্যানেল এ ১৫ জন প্রার্থী হলেও তারা প্যানেল ভােট পায় মাত্র ১১ টি অর্থাৎ তাদের প্রার্থীরাও নিজেদের ভােটটিও নিজেদের দেননি। এত ষড়যন্ত্রের পরও প্রগতিশীল শক্তিকে পরাজিত
করা যায়নি, প্রগতিশীল শক্তি শাপলা ফোরাম সভাপতি, সহসভাপতি, কোষাধ্যক্ষসহ ১০ টিতে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্টতা পান।
এরপর গত ২৯-১২-২০১৯ তারিখে বঙ্গবন্ধু পরিষদের অধিকাংশ শিক্ষকবৃন্দকে অন্ধকারে রেখে গুটি কয়েক শিক্ষক কেন্দ্র থেকে একটি কমিটি অনুমােদন করে নিয়ে আসে, যা দেখে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ শিক্ষকমণ্ডলী মর্মাহত হন। কারণ যার নেতৃত্ব দুর্বলতার কারণে এতদিন বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোন কার্যক্রম ছিল না, তাকেই সভাপতি পদে দেখা যায়। এজন্য কমিটি গঠনের পরপরই পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে! এছাড়া কমিটিতে এমন নাম দেখা যায় যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত ও সুনির্দিষ্ট দূর্নীতির অভিযােগ আছে এবং অনেকের বিরুদ্ধেই শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জামাত কে ভােট দেবার মূল কারিগর হিসেবে অভিযােগ আছে। আর একটি কারণ বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষকদের দাবী ছিল বঙ্গবন্ধু পরিষদে শিক্ষকরা স্বতন্ত্র কমিটি করবে, কিন্তু ঘােষিত কমিটিতে কতিপয় শিক্ষক থাকলেও কমিটিতি বেশীরভাগ সদস্যই কর্মকর্তা হওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এজন্য আমরা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সভায় গঠিত নির্বাচন কমিশনের মধ্যমে নির্বাচন করার উদ্যোগ নিই। তবে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় আমরা গত ১৬ জানুয়ারি ২০২০ বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহােদয় এর সাথে সাক্ষাত করি। তিনি ঘােষনা দেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ এ শিক্ষকবৃন্দের সাথে কোন কর্মকর্তা থাকবে না। এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান লাল্ট কে দায়িত্ব দেন অতি সত্ত্বর সমন্বয় করে কমিটি করে দিতে। প্রায় ১ মাস পর জনাব মতিউর রহমান লান্টু কুষ্টিয়া আসলেও তিনি বিবাদমান দুই পক্ষকে
একত্রে না বসিয়ে আলাদা আলােচনা করেন এবং বলেন তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়া এসে পূনরায় আমাদের ডাকবেন এবং একটি সমাধান করবেন কিন্তু তিনি আমাদের সাথে আর যােগাযােগ না করায় আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করি।
তিনি আরো বলেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০ শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের প্রাক্কালে যে অনাকাংখিত ঘটনার সুত্রপাত তারা করেন সেটাও শিক্ষক সমাজসহ জাতিকে বড় একটি আঘাত দেয়। তবে সেদিনও অধ্যাপক ড. মােঃ মাহবুবুর রহমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সংকট নিরসনে নির্বাচনের প্রয়ােজনীয়তা সবার সামনে উম্মুক্ত করে দেয়।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও পূর্বেই শুরু হলেও আমরা কেন্দ্রের ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রতি সম্মান দেখিয়ে শেষদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করি। কিন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক এর পক্ষ থেকে কোনরূপ সাড়া না পেয়ে ও অন্য পক্ষের কার্যক্রম এ কোনপ্রকার ঐক্য প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার প্রতিফলন না দেখায় আমরা নির্বাচনে অংশ নিই।
বঙ্গবন্ধু পরিষদ মূলত বঙ্গবন্ধুর আদর্শচর্চার একটি সংগঠন। আমরা সেই পথেই থাকব। আমরা নেতা হতে চাই না, এসব পদবী ব্যবহার করে কোন উচ্চাকাঙ্খা পূরণও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা বঙ্গবন্ধু পরিষদের কর্মী হিসেবেই কাজ করে যাব। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেব।
মুজিববর্ষে আমাদের পরবর্তী অনুষ্ঠানগুলাে করােনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে স্থগিত রাখতে হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা পূণরায় আমাদের কার্যক্রম শুরু করব। চলার পথে সর্বদা আপনাদের সহায়তা আমাদের প্রয়ােজন। সর্বশেষ একটি কথা বলে শেষ করতে চাই, ঐক্যের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি, আমাদের আলােচনার দ্বার সব সময় খােলা বলে উল্লেখ করেন সাধারণ সম্পাদক।
লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বঙ্গবন্ধু পরিষদে নেতৃবৃন্দ।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইবি শাখার নির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ড.রুহুল কুদ্দুস মোঃসালেহ, সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃআবু হেনা মোস্তফা জামাল। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন, শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, অধ্যাপক ড.নিলুফা আক্তার বানু, অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন, অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোয়ার্দার, অধ্যাপক ড.মেহের আলী প্রমুখ।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতি ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস