হাসপাতালের অভাবে পতেঙ্গাবাসীর চরম দুর্ভোগ

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের দক্ষিণ হালিশহর হতে দক্ষিণ পতেঙ্গা পর্যন্ত সাধারণ জনগোষ্ঠীর জন্য নেই কোন হাসপাতাল। করোনা আতঙ্কে ভুগছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।

নগরীর উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে এই এলাকাজুড়ে রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্রসহ কর্নফুলী টানেলের মত উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হলেও চট্টগ্রাম নগরীর অতি গুরুত্বপূর্ণ ও কর্মব্যস্ত এলাকা দক্ষিণ হালিশহর হতে নগরীর একদম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বসবাসকারী সাধারণ মানুষের চিকিৎসার্থে নেই কোন হাসপাতাল। দক্ষিণ হালিশহর হতে দক্ষিণ পতেঙ্গা পর্যন্ত রয়েছে ৭ লাখেরও অধিক লোকের বসবাস। এই বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান সহ দেশের বৃহৎ পোষাক রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল সিইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেড। প্রায় ৩ লাখেরও অধিক শ্রমজীবী মানুষ তাদের কাজের সুবিধার্থে বসবাস করেন এই এলাকায়৷ অথচ, এত বড় জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবায় নেই কোন সাধারণ হাসপাতাল। সারা বিশ্বে বর্তমানে যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে মানুষ নানান সেবা সচেতনতায় অস্থির। তখন এই এলাকার মানুষরা রয়েছেন অনিশ্চয়তার কবলে।

প্রসঙ্গত অত্র এলাকায় নগরীর ৩৯ নং ওয়ার্ডে ও সী-ম্যান্স হোস্টেল সংলগ্ন এলাকায় বিজিএমইএ’র তত্ত্বাবধায়নে দু’টি হাসপাতাল থাকলেও তা কেবল বিশেষ ব্যক্তি ও তালিকাভুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য সীমাবদ্ধ। যেখানে সাধারণ জনগণের চিকিৎসার কোন সুযোগ নেই। সাধারণ রোগীদের দীর্ঘ পথ, সময় ও যানজট পেরিয়ে যেতে হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যা অত্যন্ত দুর্ভোগ ও ভোগান্তির ব্যাপার।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াতের প্রসঙ্গে বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে রাশেদ নামে এক যুবক বলেন, পতেঙ্গা হতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। তার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত যানজটের ভোগান্তি। এমতাবস্থায় বন্দর, ইপিজেড, সিমেন্ট ক্রসিং পেরিয়ে সময়মত হাসপাতাল পৌঁছানো দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। জরুরী ভিত্তিতে গুরুতর অসুস্থ কোন রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাকে পথিমধ্যেই প্রাণ হারাতে হয়। যেমনটি ইতোপূর্বে বেশ কিছু রোগীর রাস্তায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই পতেঙ্গার আপামর জনগণের কল্যাণে পতেঙ্গায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ অতি জরুরি।

একই দুঃখ কষ্ট ও ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে শিহাব নামের এক কলেজ ছাত্রও উক্ত এলাকায় একটি হাসপাতাল নির্মাণে সরকারের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। তিনি বলেন, “করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াই চিকিৎসা সেবা নিয়ে আমরা সর্বদা চিন্তিত থাকি। এর মধ্যে যদি করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আমরা কোথায় যাবো।”

এ ব্যাপারে, ৩৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃক পরিচালিত মাতৃসদন হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবায় লোকবল সংকট থাকায় আমরা এলাকাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দিতে পারছি না৷ তবে শীঘ্রই এ এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে৷

এ বিষয়ে ৪০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব আবদুল বারেক বলেন, চট্টগ্রাম- ১১ আসনের সাংসদ এমপি এম.এ লতিফ মহোদয় এই এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি সংসদে ইতিমধ্যে জোড়ালোভাবে উত্থাপন করেছেন৷ খুব শীঘ্রই পতেঙ্গবাসীর এ দাবি পূরণ করা হবে।

এছাড়া গত সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনও তাঁর উত্তর কাট্টলিস্থ বাসভবনে নাগরিক উদ্যোগের সভায় পতেঙ্গা এলাকায় সম্মিলিত হাসপাতাল বা মাতৃসদনের দাবি জানান।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর