এক রোগীর দুই রিপোর্ট, শঙ্কিত পরিবার!

দুই প্রতিষ্ঠানের দুই ধরনের রিপোর্টে শঙ্কিত রোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা। সিরাজগঞ্জ শহরের শীর্ষ বেসরকারি হসপিটাল আভিসিনায় এক শিশুর জন্ডিস পরীক্ষার (বিলিরুবিন) ভুল রিপোর্ট প্রদান করায় এমন শঙ্কিত হয়ে পড়েছে শহরের অপর একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিশুটির মা ডা. তাবাসসুম তামান্না।
এ বিষয়ে শিশুটির মা ডা. তামান্না রোববার (১৫ মার্চ) সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৯ মার্চ ২০) ডা. তামান্নার ছেলে ও সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুলের নার্সারীর ছাত্র রায়ান (৬) এর নিয়মিত মেডিকেল চেকআপের জন্য আভিসিনা হসপিটালে গিয়ে জন্ডিস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়ে দেখতে পান তার বাচ্চার এস. বিলিরুবিন (টোটাল) ৫.২৪। এতে তিনি আতংকিত হয়ে হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট
নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এসময় ল্যাব টেকনিশিয়ান তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, তিনবার চেক করে রিপোর্টটি দেয়া হয়েছে এবং রিপোর্টটি নির্ভুল। পরে বগুড়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে আবারো পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে এস.ডবলিরুবিন (টোটাল) আসে ০.৩৪। পরে উভয় রিপোর্ট নিয়ে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. জাকির হোসেনের কাছে গেলে তিনি জানান, বাচ্চার কোন জন্ডিস
নেই, যা ক্লিনিক্যালী বোঝা যায়।

আভিসিনা হসপিটাল যে রিপোর্ট দিয়েছে তা ভুল। এসময় তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ওই রিপোর্টেও ভিত্তিতে বাচ্চাকে চিকিৎসা প্রদান করা হলে লিভারের উপর ক্ষতিকর প্রভাবসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তো।
পরে বগুড়া থেকে ফিরে ১২ মার্চ আভিসিনা হসপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ডা. এ এম মোসাদ্দেক মাসুমের কাছে অভিযোগ করলে এনালাইজার মেশিন নষ্ট বিধায় ভুল রিপোর্ট এসেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এসময় তার কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করলে তিনি আর্থিক ক্ষতিপুরন দিয়ে ঘটনার ইতি টানতে চান। কিন্তু ডা. তামান্না এ প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি এর বাইরে আর কিছু করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। প্রয়োজনে যেকোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন।

এ ব্যাপারে ডা. তাবাস্ধসঢ়;সুম তামান্না বলেন, একজন ডাক্তার হয়েও যদি আমাকে এমন হয়রানির শিকার হতে হয় তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? শহরের শীর্ষ পর্যায়ে হসপিটালটি নষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ মেশিন
দিয়ে ভুল রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণা করে জীবন সংশয়ের মধ্যে ফেলছে। সুতরাং বিষয়টি পর্যালোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক সর্ব সাধারণের স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আভিসিনা হসপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. এ এম মোসাদ্দেক মাসুমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এজন্য ডা. তামান্নাকে ক্ষতিপুরন দিতে চাইলেও তিনি
গ্রহণ করেননি। এছাড়া আমার আর কি করার আছে।

অপরদিকে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলামের সাথে সেল ফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর