জাবির মঞ্চে দুখিনী কবি চন্দ্রাবতী

ব্যথাতুর চন্দ্রাবতী প্রতিজ্ঞা করে কুমারী থেকে শিবের সাধনায় জীবন কাটাবে। পিতার কাছে অনুমতি চাইলে পরামর্শ দেন রামায়ণ লেখার। চন্দ্রাবতী শুরু করে শিব পুজা ও সাহিত্য সাধনা। এর মাঝে কেটে যায় বেশ কিছুকাল। এক সময় জয়ানন্দ উপলব্ধি করে আসমানীর প্রতি তার টান মোহমাত্র। প্রকৃতপক্ষে চন্দ্রবতীকেই ভালোবাসে সে।

ছবি: বার্তা বাজার

সোমবার (১৬ মার্চ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ স্নাতক সম্মান ২য় পর্বের ব্যবহারিক বাংলা ২০৮ কোর্সের অধীনে জহির রায়হান অডিটেরিয়ামে নয়ানচাঁদ ঘোষ রচিত ‘চন্দ্রাবতী’নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। নাটকের নিদের্শনায় ছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম আনু। নাটকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর দুঃখময় জীবনী ফুটে উঠেছে। মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতীর জীবনের বেদনা বিধুরতা,সকরুণতা ২০২০ সালেও দর্শকের মনে দাগ কেটে যায়।

ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাতুয়ারী গ্রামে কবির জন্ম। ছোটকালে মাতৃহারা চন্দ্রা বেড়ে ওঠে পিতা বংশীদাস ভট্টাচার্য এর কাছে। বাল্যকালে চন্দ্রাবতীর বন্ধু ও খেলার সাথী জয়ানন্দের সাথে যৌবনে বিয়ে স্থির হয়। বিয়ের দিন জয়ানন্দ পালিয়ে যায় মুসলিম নারী আসমানীর সাথে। বধূ সাজে সজ্জিত চন্দ্রাবতী জানতে পারে জয়ানন্দ বিয়ে করেছে বিধর্মীকে।

ভুল শোধরাতে জয়ানন্দ সন্ধ্যার দিকে এসে পৌঁছায় চন্দ্রাবতীর মন্দিরে। চন্দ্রাবতী তখন রুদ্ধদ্বার ধ্যানমগ্ন। জয়ানন্দ মন্দিরের দরজায় এসে ডাকাডাকি করে অনেকবার, কড়াও নাড়ে। কিন্তু ধ্যান ভাঙ্গেনি চন্দ্রাবতীর। ব্যর্থ জয়ানন্দ মন্দিরের দরজায় একটি কবিতা লিখে বিদায় নেয় চিরদিনের মতো। ধ্যান ভাঙলে চন্দ্রাবতী মন্দির পরিষ্কার করারজন্য নদীর ঘাটে যায় জল আনতে। সেখানে গিয়ে দেখে, জয়ানন্দের নিথর দেহ ভাসছে নদীর জলে। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনী।

এই দুখিনী কবির রচিত ‘চন্দ্রাবতী রামায়ণ’য়ে সীতার দুঃখময় জীবনের সাথে নিজের জীবনী মিশিয়ে ফুটে তুলেছেন বাংলা আবহমানকাল থেকে চলে আসা অবহেলিত অত্যাচারিত নারীর জীবন কাহিনী।নাটকের অভিনয়ে ছিল-আসিফ, সুভা,তাকিয়া, হিমু, অনামিকা ,নাসির, মীম,রিমা, আখি,মেহেদি,সৌরভ, অন্তর,রওনক,। প্রসঙ্গত,প্রতিবছর জাবির বাংলা বিভাগ কর্তৃক ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের হাফ কোর্চ হিসেবে নাটক মঞ্চায়িত করতে হয়। যা একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রুপ নিয়েছে। নাটকের ভাষায় ফুটে আসে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যায়, অত্যাচার ,জুলুম, নির্যাতনের কথা।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর