স্লোভেনিয়াতে মহামারি রূপ ধারণ করছে প্রাণঘাতী করোনা

মধ্য ইউরোপের ছোট্ট দেশ স্লোভেনিয়াতে ধীরে ধীরে মহামারি আকার ধারণ করছে কোভিড-১৯ খ্যাত নোবেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ।

সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী স্লোভেনিয়াতে প্রায় ২৫৩ জনের শরীরে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এবং একজনের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। (সূত্রঃ- visitljubljana.com) উল্লেখ্য যে স্লোভিয়াতে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত করা হয় এ মাসেরই চার তারিখে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি মূলতঃ মরোক্কো থেকে ফেরার সময় ইতালি হয়ে স্লোভেনিয়াতে প্রবেশ করেছিলেন।

এরপর থেকে যেনও ধীরে ধীরে স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানা ছাড়িয়ে অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী এবং স্লোভেনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মারিবোর, পোর্ট সিটি খ্যাত কপার, নোভা গোরিছা, ক্রানিয়ে, ছেলইয়ে, ম্যাটলিকা সব জায়গায় এ করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে এবং প্রতিনিয়তই এ ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

ইতোমধ্যে স্লোভেনিয়ার বৰ্তমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেস শাবেদার স্লোভেনিয়াতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিহত করতে জরুরি অবস্থার ডাক দিয়েছেন, আজকের থেকে দেশটির অভ্যন্তরে সকল ধরণের গণপরিবহন চলাচলকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও ট্যাক্সিও চলাচল করছে না।

দেশটির রাজধানী লুবলিয়ানাতে অবস্থিত ইয়োজে পুচনিক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে সকল ধরণের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করা হয়েছে যা আগামীকাল ১৭ই মার্চ থেকে কার্যকর হতে চলেছে। মিউজিয়াম, গ্যালারি, রেস্টুরেন্ট এবং কফিশপ যেখানে একই সাথে অনেক মানুষের সমাগম হয় সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটা পর্যন্ত স্লোভেনিয়াতে সকল শিক্ষা-প্ৰতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পোস্ট অফিস, ব্যাংক, ফার্মেসি, পেট্রোল স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকী সকল ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে স্লোভেনিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। মার্কাটোর, ফামা, স্পার, লিডল, হফারসহ যাবতীয় চেইনশপগুলো তাঁদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রত্যকটি শপে এক সাথে হয় তো বা একজন কিংবা একই পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

সুপারশপগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্রেতাদের অনেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিস না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসছেন। রাস্তা-ঘাঁট কিংবা দর্শনীয় স্থানগুলো বলতে গেলে এখন অনেকটাই ফাঁকা এবং সে রকম কোনও মানুষের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে না।

পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ইতালির সাথে ইতোমধ্যে স্লোভেনিয়ার সীমান্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং অস্ট্রিয়া ও ক্রোয়েশিয়া হাঙ্গেরির সীমান্তে স্পেশাল মেডিকেল চেক পোস্ট বসানো হয়েছে ও যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে এবং গতকাল ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তে পণ্যবাহী ভারী ট্রাকগুলো প্রায় আঠারো ঘণ্টা যাবৎ আটকে থাকার খবরও স্লোভেনিয়ার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে ইতালির মতো ক্রোয়েশিয়ার সাথেও স্লোভেনিয়া তাঁদের সীমান্ত সংযোগ বন্ধ করে দিতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।

যে কোনও সময় কারও শরীরে কোবিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ তাঁকে ১১২ অথবা ০৮০১৪০৪ নাম্বারে ফোন দেওয়ার জন্য দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর