করোনা মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন
বিশ্বব্যাপী ভয়ংকর ভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে করোনা ভাইরাস। চলতি মাসে দেশে করোনা সনাক্ত হওয়ার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে গোটা দেশ। তার ধারাবাহিকতায় করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ব্যস্ত সময় পার করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।
দফায় দফায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক সেমিনার অব্যাহত রয়েছে। এজন্য জেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। স্থাপন করা হয়েছে ১শ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার।
করোনা প্রতিরোধের বিষয়ে জেলায় কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সড়ক ও গণপরিবহনসহ বিভিন্ন পেশাজিবী সংগঠনের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জেলায় করোনা সনাক্তের থার্মাল স্কানারের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, অল্প সময়ের মধ্যে আরো বেশ কিছু থার্মাল স্ক্যানার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আকাশ ও নৌ-পথে কক্সবাজারে আগতদের করোনা পরীক্ষার জন্য বিমান ও স্থলবন্দরে করোনা ভাইরাস শনাক্তে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি সকল যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানারে পরীক্ষা করছেন মেডিকেল টিমের সদস্যরা।
এছাড়া প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিলাসবহুল বাসগুলোতেও ভ্রমনকারী যাত্রীদেরও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। অতিদ্রুত সময়ে দূরপাল্লার সকল বাস যাত্রীদের এই পরীক্ষার আওতায় আনা হবে।
পরিবহন সেক্টরের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় কালে পরিবহন কর্মচারীদের সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, বাস টার্মিনালসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজে করোনা থেকে বাঁচতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা, স্টপেজ গুলোতে বাসে ভ্রমণকারী যাত্রীদের হাত পরিষ্কারের ব্যবস্থা রাখা, টার্মিনাল বা কাউন্টারের বাসগুলোতে করোনা বিষয়ক সচেতনতার জন্য হটলাইনের নাম্বার সম্বলিত পোস্টার লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়।
অপরদিকে জেলার রোহিঙ্গা শিবির গুলোতে প্রায় ১১লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসবাস। তাই শিবির গুলোকে করোনার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে রোহিঙ্গা শিবির গুলোতে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশীয় এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিগণের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্টিত হয়।
এসময় রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের মাঝে করোনা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি, সংস্থাগুলোতে কর্মরত বিদেশি কর্মকর্তাগণের করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে সতর্কতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এদিকে টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ারমার থেকে আগত পণ্যবাহী জাহাজ গুলো বন্দরে নোঙ্গর করার সাথে সাথে ট্রলারে অবস্থানকারী লোকজনকে মেডিকেল টিমের সদস্যরা থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করছেন।
এছাড়া বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা যেহেতু পণ্য খালাসের সময় ট্রলারে করে আগত লোকজনদের সাথে অবাধ মেলামেশা করে তাই ঝুকি এড়াতে শ্রমিকদেরও থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, এপর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে সনাক্ত করা যায়নি। করোনা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে ৫০ শয্যা ও রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার দুটি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
জেলার প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা বাড়িয়ে একযোগে কাজ করতে সরকার প্রয়োজন সংখ্যক ইনফ্রারেড থার্মাল ইন্সট্রোমেন্ট সর্বরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হবার পরামর্শ দেন।
বার্তাবাজার/কেএ