ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের নামে মিথ্যা মামলা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এরই প্রতিবাদে ভুক্তভোগীরা সোমবার (১৬ মার্চ) তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন লিখিত লিখিত বক্তব্যে বলেন, তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের ঝাড়ুয়াপাড়া গ্রামের মফিজউদ্দিনের ছেলে আব্দুস সাত্তার নামের এক ব্যক্তি ১৯৯৭ সালে বগুড়ার ময়নুল হক সুলতান, রেজাউল বারী, হাসিব চৌধুরী, ইমতিয়াজ ও আমিনুর রশিদের কাছে ৬৬ শতক জমি বিক্রি করেন।
ময়নুল হক সুলতান গং বগুড়ায় অবস্থান করায় জমির দেখভাল করার দায়িত্ব ছিল সাত্তারের কাছেই। এরই সুযোগে সাত্তার ওই জমি এক বছর আগে তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের বালুবাড়ী এলাকার পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদের কাছে ৪০ শতক জমি ভাড়া দেন। ভাড়াটে হামিদ এক পর্যায়ে সাত্তারকে প্রলোভন দেখিয়ে ওই জমি কিনে নিয়ে ঘর তোলেন।
পরবর্তীতে জমির প্রকৃত মালিকরা ওই জমিটি স্থানীয় সাইদুল ইসলাম, আজিজার রহমান ও তহিদুল ইসলামকে বায়নামা রেজিস্ট্রি করে দেন। আইন অনুযায়ি প্রথম ক্রেতারাই ওই জমির প্রকৃত মালিক। কিন্তু আব্দুল হামিদ জোর করে ওই জমি দখল করে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রথম ক্রেতাদের ৩১৮ নং দলিল, খারিজ খতিয়ানসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখে আব্দুল হামিদকে জমির বিরোধ মিমাংসা করার পরামর্শ দেই। কিন্তু আব্দুল হামিদ জমির বিরোধ মিমাংসা না করে গত ১ বছরে আমার ও আমার এলাকার ১২ জনের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ আব্দুল হামিদ নিজের স্ত্রী ও শাশুড়ীর মাথা ব্লেড দিয়ে কেটে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ১৩তম সাজানো ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি দাবি করেন আব্দুল হামিদ নিজের স্ত্রী ও শাশুড়িকে ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার ঘটনায় তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড়ের কোন হাসপাতালেই ভর্তি না করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। আবার দুজনের একই জায়গায় কাটা।
আব্দুল হামিদ তেঁতুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেননি। সবগুলো মামলাই আদালতের দাখিল করেছেন। সবগুলো মামলারই সাক্ষী একই ব্যক্তি। তিনি দাবি করে জমির তার নয় কিন্তু সব মামলার প্রধান আসামি তিনি। সবগুলো মামলাই মিথ্যা। ইতিমধ্যে পুলিশ দুটি মামলায় মিথ্যা বলে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হামিদের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার ওই এলাকার আজিজার রহমান, সাইদুল ইসলাম, তহিদুল ইসলাম, সামসুজ্জোহা, সেলিম রানা, নুর ইসলাম, মো. আব্দুস সাত্তার, জিন্নাত আলী, মোছা. টুকটুকি, মোছা. মিনি আক্তার, মোছা. জহুরা বেগমসহ আব্দুল হামিদের ষড়যন্ত্রের শিকার তেঁতুলিয়ার লতিফগছ এলাকার শাহজাহান আলী, আতাউর রহমান, সাবুল, আবুল কালাম, আব্দুর রশিদ ও জামিরুলসহ এলাকাবাসি উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল হামিদ বলেন, আমার কেনা জমি উপরোক্ত আসামীরা জোর করে দখল করে নিতে চায়। এজন্য একাধিক মামলা করেছি। মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন আছে।
বার্তাবাজার/এমকে