ফেনীর ছাগলনাইয়ায় শ্রেণিকক্ষে শিশু শিক্ষার্থীর জামাকাপড় খুলে প্রস্রাব পরিষ্কার করার অভিযোগ উঠেছে ফেনীর ছাগলনাইয়ার এক প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকা নাছরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়ার ইউএনওর কাছে রোববার (১৫ মার্চ) বিকালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রীর বাবা।
জানা যায়, উপজেলার পূর্ব হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী প্রতিদিনের মতো রোববার (১৫ মার্চ) সকালে বিদ্যালয়ে যায়। ক্লাস চলাকালীন তার প্রস্রাবের বেগ হলে বাথরুমের যাওয়ার জন্য শ্রেণি শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাছরিন আক্তারের কাছে অনুমতি চায়। তখন শিক্ষিকা তাকে অনুমতি না দিয়ে ক্লাস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে। ছোট শিশু প্রস্রাবের প্রচণ্ড বেগ চেপে রাখতে না পেরে ক্লাসের মধ্যেই প্রস্রাব করে দেয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে মারধর করে জামা কাপড় খুলে নেয় প্রধান শিক্ষক। পরে ওই জামাকাপড় দিয়ে প্রস্রাব পরিষ্কার করে খালি গায়ে ছাত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় প্রধান শিক্ষক।
ছাত্রীর বাবা বলছেন, ম্যাডামের এমন আচরণে ছাত্রীটি মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছে। সব সময় আতংকের মাঝে থাকছে সে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন জানান, ‘প্রধান শিক্ষিকা নাছরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ এসেছে। স্যার আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।’
অভিযোগ পাওয়া এবং এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া তাহের।
অপরদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা নাছরিন আক্তার দাবী করেন, ‘ফাঁকিবাজি করে ক্লাসের বাইরে থাকার চেষ্টা করে বাচ্চারা। আমি পড়া দিয়ে বের হতে বললে সে ক্লাসে প্রস্রাব করে দেয়। আমি জামাকাপড় খুলেছি, তবে প্রস্রাব পরিষ্কার করেছি অন্য কাপড় দিয়ে। এটা নিয়ে এত মাতামাতির কি আছে।’
বার্তাবাজার/এসজে